রাজধানীতে বাড়ছে কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্রেপ্তারও। গেলো ৬ মাসে হাজার খানেক আটক হয়েছে, যার মধ্যে গতমাসেই প্রায় ৪০০ । তবে, ঢালাও গ্রেপ্তারে সমাধান দেখছেন না অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত; সেইসঙ্গে জুলাই হত্যাযজ্ঞের দৃশ্যমান বিচার।
দলটির নেতা-কর্মীদের এমন তৎপরতায় খানিকটা বিপাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চলছে গ্রেপ্তারের হিড়িক। এমন বাস্তবতায় রাজনীতির মাঠে উত্তাপের পাশাপাশি জনমনে বাড়ছে শঙ্কাও।
পুলিশের তথ্য বলছে, গত ছয় মাসে রাজধানীতেই আটক হয়েছেন প্রায় হাজার খানেক। চলতি বছরে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই গ্রেপ্তার হয়েছে প্রায় ৪০০ আওয়ামী কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন বানচাল, নাশকতা আর অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, এভাবে গ্রেপ্তার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সমাধান নয়। দরকার গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের দৃশ্যমানের বিচারের পাশাপাশি, রাজনৈতিক ঐকমত্য। অন্যথায় সময়মত নির্বাচন হওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখছেন তিনি।
তিনি বলেন, ঢালাও গ্রেপ্তার সামগ্রিকভাবে জনগণের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। বিষয়টি রাজনৈতিক এটাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। সেই উদ্যোগকে বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, কার্যক্রম স্থগিত এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের অপতৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইলেও তা হতে দেবে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জনগণের নিরাপত্তায় যারা বাধা সৃষ্টি করবে এবং এইসব অপরাধে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মব সৃষ্টি না করে যেকোনো নৈরাজ্যের তথ্য সাথে সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
Leave a Reply