টয়লেটে যাওয়ার পর টিস্যুতে রক্ত দেখা যাচ্ছে? মলদ্বারের পাশে ছোট একটি গাঁট অনুভব করছেন বা কয়েক দিন ধরে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হচ্ছে? তাহলে ভুলেও অবহেলা করবেন না। অনেকেই এই সমস্যাকে অর্শ ভেবে ভুল করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সবসময় ঠিক নয়।
মলদ্বারে রক্তপাত বা গাঁট শুধু অর্শের লক্ষণ নয়, এটি অ্যানাল ফিশার, সংক্রমণ, এমনকি বিরল ক্ষেত্রে অ্যানাল ক্যানসারেরও ইঙ্গিত হতে পারে। তাই উপসর্গকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন? মলত্যাগের সময় বা পরে বারবার রক্তপাত, মলদ্বারের পাশে শক্ত বা ফুলে থাকা গাঁট, দীর্ঘদিন ব্যথা বা জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা অস্বস্তি কমছে না, মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন, মলদ্বার থেকে পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব বের হওয়া। এক–দু’দিনের সামান্য রক্তপাত সবসময় ভয়ঙ্কর নাও হতে পারে, তবে একই সমস্যা বারবার হলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
পাইলস আর অ্যানাল ক্যানসারের মধ্যে পার্থক্য কী? পাইলস বা অর্শ হয় মলদ্বারের শিরা ফুলে গেলে। এতে সাধারণত উজ্জ্বল লাল রক্ত, চুলকানি ও গাঁটের মতো অনুভূতি হতে পারে। অন্যদিকে, অ্যানাল ক্যানসারে রক্তপাতের সঙ্গে শক্ত গাঁট, স্থায়ী ব্যথা, বসতে অসুবিধা, মলদ্বারে চাপ লাগা এবং কখনও অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে শুধু লক্ষণ দেখে দুটির পার্থক্য বোঝা সম্ভব নয়। তাই নিজে ওষুধ খাওয়ার বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
কখন দেরি করা একেবারেই উচিত নয়? এক সপ্তাহের বেশি রক্তপাত চললে, প্রতিবার মলত্যাগে রক্ত দেখা গেলে, গাঁট দ্রুত বড় হতে থাকলে, তীব্র ব্যথা বা জ্বরের সঙ্গে ফোলা থাকলে, রক্তপাতের সঙ্গে দুর্বলতা বা রক্তাল্পতার লক্ষণ দেখা দিলে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কীভাবে রোগ ধরা পড়ে? প্রথমে চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করেন। প্রয়োজন হলে অ্যানোস্কোপি, সিগময়েডোস্কোপি বা কোলোনোস্কোপির মতো পরীক্ষা করা হয়। সন্দেহজনক গাঁট থাকলে বায়োপসিও করা হতে পারে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তপাতের আসল কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়।
ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন। আঁশযুক্ত খাবার, ফল ও শাকসবজি বেশি খান। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে নিয়মিত হাঁটুন। মলত্যাগের বেগ চেপে রাখবেন না এবং টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না।
Leave a Reply