ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষীদের উপর হেনস্তার প্রতিবাদে সোমবার (২১ জুলাই) শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে এই আন্দোলনের ডাক দেন মমতা।
এদিন তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সার্কুলার জারি করে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো ও জেলে ভরে রাখার ষড়যন্ত্র করেছে। মমতার দাবি, জাতীয় সঙ্গীত থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম যে বাংলায় হয়েছে, সেখানকার ভাষার উপর আঘাত এলে তা মানা হবে না, প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর একুশে জুলাইয়ের এই কর্মসূচি থেকে দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অভিমুখ ঠিক করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বনাম বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি হেনস্থার অভিযোগ। ৩৩তম ‘শহিদ তর্পণে’র মঞ্চ থেকে সেই ইস্যুকেই হাতিয়ার করে ভোটাধিকার ও নাগরিকত্বের রাজনীতিকেই সামনে আনল তৃণমূল।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাংলা ভাষার উপরে সন্ত্রাস মানছি না, মানবো না। বাংলা ভাষা এশিয়াতে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সারা পৃথিবীতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে এই বাংলা ভাষা। আর কোন ভাষার এত ব্যাপ্তি নেই। সেই বাংলা ভাষার উপরে যদি অপমান হয়, অত্যাচার হয়, সন্ত্রাস হয় তবে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব দেব।
সমাবেশ থেকে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ২৭ জুলাই থেকে ভাষা আন্দোলন শুরু হবে। সব ভাষাভাষী মানুষদের নিয়ে মিছিল মিটিং করবে তৃণমূল, যা চলবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত।
Leave a Reply