সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে রেমিট্যান্স ফি (প্রবাসী আয় নিজ দেশে পাঠানোর খরচ) বাড়ানোর আশঙ্কা নেই। এমনটি জানিয়েছেন বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং ব্যাংক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা।এর আগে, ২০২৪ সালের মে মাসে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল দেশটিতে (ইউএই)। তখন দেশের বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো রেমিট্যান্স ফি’তে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে জয় অলুক্কাস গ্রুপের চেয়ারম্যান (যারা গহনা ব্যবসার পাশাপাশি রেমিট্যান্স সেবাও চালায়) জয় অলুক্কাস, বলেন, ‘২০২৪ সালের শুরুতে সেন্ট্রাল ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর জন্য রেমিট্যান্স ফি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু এখনকার প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নতুন করে ফি বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন রেমিট্যান্স গ্রাহকদের উপর চাপ বাড়ানো মানে হলো ফুটন্ত হাঁড়িতে আরও আগুন দেয়া। এতে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর যারা ভরসা রেখেছেন, তাদের হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।’
জয় অলুক্কাসের মতে, ‘যখন কেউ নগদ অর্থ পাঠায়, তখন সে শুধু অর্থ নয়-ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ আর আশাও পাঠায়।’
এই বার্তাই এখন অন্যান্য রেমিট্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের গ্রাহকদের জানাচ্ছেন, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে আমিরাতের অনেক প্রবাসী আশঙ্কা করছিলেন যে রেমিট্যান্স ফি আবার বাড়ানো হতে পারে।
বিশেষ করে ভারত ও ফিলিপাইনের প্রবাসীরা চিন্তিত ছিলেন, কারণ ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ডলারের মূল্য কিছুটা কমে যাওয়ায় তারা স্থানীয় মুদ্রায় কম পাচ্ছেন। এর ওপর ফি বাড়লে ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যেত।
সম্প্রতি কিছু ব্যাংক গ্রাহকদের জানিয়েছিল যে আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার ফিতে পরিবর্তন আসছে। তবে দ্রুত স্পষ্ট করে বলা হয়, এই ফি ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, মিসর, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাজ্য- এসব দেশের রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এটি অনেক প্রবাসীর জন্য স্বস্তির বার্তা হয়েছে।
ইউএই-তে গড় রেমিট্যান্স ফি (এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর) ভারতীয়দের জন্য এক হাজার দিরহাম পর্যন্ত ফি ১৮ দিরহাম, এরপর ২৫ দিরহাম; ফিলিপাইন ও বাংলাদেশিদের জন্য ২০ দিরহাম করে।
Leave a Reply