ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বহুবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প সত্যটা প্রকাশ করেও দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আমেরিকানরা কেবল তখনই সন্তুষ্ট হবে, যখন ইরান পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করবে এবং পরাজয় মেনে নেবে। এর বাইরে তাদের আর কিছুই চাওয়ার নেই।
যুদ্ধবিরতির মধ্যে প্রথমবার ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে এসব বলেন। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এটি তার তৃতীয় টেলিভিশন বার্তা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক পোস্টের প্রসঙ্গ খামেনেয়ি তুলে ধরেন যেখানে ট্রাম্প ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছিলেন।
খামেনেয়ি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানি সরকারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘মৌলিক দ্বন্দ্ব’ চলে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আসছে- ‘কখনো মানবাধিকার, কখনো নারীর অধিকার, কখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, কখনো পারমাণবিক কর্মসূচির মূল বিষয়, আবার কখনো ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের ইস্যু’ তুলে ধরে।’কিন্তু এই বিবৃতিতে তিনি (ট্রাম্প) সত্যটা প্রকাশ করেছে, তিনি নিজের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করে ফেলেছে, বলেন খামেনেয়ি।
আগের কোনো প্রেসিডেন্ট এতটা নগ্নভাবে বলেনি, কারণ কোনো জাতিকে সরাসরি আত্মসমর্পণের কথা বলা অগ্রহণযোগ্য, এটা অবাস্তব এবং অযৌক্তিক।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা নানা অজুহাত দাঁড় করালেও, প্রকৃতপক্ষে তারা চেয়েছিল ইরান আত্মসমর্পণ করুক।
এদিকে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ের জন্য ইরানি জাতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন খামেনেয়ি। তিনি বলেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রবল আঘাতে জায়নিস্ট শাসন প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, একপ্রকার চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন,আমি ইরানের মহান জাতিকে দুটি বিষয়ের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রথমত, এই ভুয়া জায়নিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন। যতই প্রচারণা হোক, যতই দাবি করুক না কেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আঘাতে জায়নিস্ট শাসন একরকম ধসে পড়েছে ও ধ্বংস হয়ে গেছে।
Leave a Reply