মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী আজ মহানবমী পূঁজা, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ৯ মাসে মব সহিংসতায় নিহত-১৮৭ রংপুরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে সৈয়দপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে-১৪ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঁচ বিষয়ে জোর ইসরায়েলে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে মুসলিম ভোটাররা বিএনপি সরকারের ৮ মাসে পদ হারালেন ৩ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক এমপি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যজনক ফেসবুক পোস্ট

সান্ডা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে তোলপাড়

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৯ মে, ২০২৫
  • ৭১ বার

মাস্টিগুর, সান্ডা, কিংবা কাঁটা লেজযুক্ত টিকটিকি- উভচর এই প্রাণীকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। আরবিতে যার নাম দব, ইংরেজিতে ( Uromastyx)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে, মরুর বালির মধ্যে প্রবাসীরা দৌড়ে বেড়াচ্ছেন সান্ডা ধরতে। কেউ বলছেন, ভাই, এই সান্ডা না ধরতে পারলে চাকরি যাবে, আবার কেউ বলছেন, কফিল বলেছে সান্ডা না পেলে ভিসা ক্যানসেল।
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় সান্ডার তেলকে অনেকে যৌন শক্তি বৃদ্ধির উপাদান হিসেবে প্রচার করে থাকেন। যদিও বিজ্ঞান সম্মতভাবে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়। প্রবাসে আগে বহু মানুষ না চিনলেও এটি এখন ভাইরাল। শুধু প্রাণী হিসেবে নয়, এখন একধরনের ‘প্রতীক’—প্রবাসী জীবনের হাস্য-কান্না, কষ্ট আর কৌতুকের প্রকাশ।
সান্ডা: এটি বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়। সান্ডা মূলত উভচর এবং সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী, গুইসাপের মতো। এটি মূলত আরবের মরুভূমিতে পাওয়া যায় এবং এটি Spiny-tailed Lizard বা Uromastyx নামে পরিচিত।
সাহাবিগণ এটি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর উপস্থিতিতেই খেতেন। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে এটি খাননি, তবে সাহাবিদের খেতে নিষেধও করেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘এটি আমার এলাকায় ছিল না, তাই আমি এর প্রতি আগ্রহ বোধ করি না। কিন্তু তোমরা খেতে পারো, কারণ এটি হারাম করা হয়নি।’ (সহিহ বুখারি: ৫৩৯১, সহিহ মুসলিম: ৪৯৪৪)। অধিকাংশ ইসলামি স্কলারদের মতে এটি হালাল, তবে হানাফি মাজহাবে এটি খাওয়া হারাম।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে: ‘তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার এবং তা আহার হালাল করা হয়েছে।’ (সূরা আল-মায়েদা: ৯৬)। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন: ‘সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।’ (তিরমিজি: ৬৯, আবু দাউদ: ৮৩)
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত সহিহ বুখারি অনুবাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দব রাসুলুল্লাহ (স.)-এর উপস্থিতিতে সাহাবীগণ খেতেন। তিনি নিজে খাননি, তবে সাহাবিদের খেতে নিষেধ করেননি। ফাউন্ডেশনের দৃষ্টিতে, রাসুলুল্লাহ (স.) হারাম বলেননি, তাই আরব অঞ্চলে এটি জায়েজ বলে গণ্য।
শরিয়াহ নির্দেশিত খাদ্য গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সান্ডা ও গুইসাপ খাওয়া থেকে বিরত থাকা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে জরুরি। আর দব যাদের খাওয়ার অভ্যাস আছে, তারা খাবেন, আর যাদের মাজহাবে অনুত্তম, তারা তা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories