৭৬তমজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন সামিয়া জাহান আফসানা ও সাদিয়া জাহান শাহানা নামে যমজ দুইবোন। তারা টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মিলপাড়া গ্রামের মো. আল-আমীন ও আফিয়া আক্তার শিক্ষক-দম্পতির সন্তান।
এ বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটে শিফটভিত্তিক ফলাফলে তৃতীয় শিফটে ১ম স্থান অর্জন করেছে সামিয়া জাহান আফসানা। জমজ দুই বোনের অন্যজন সাদিয়া জাহান শাহানা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ‘এ’ ইউনিট এর ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় শিফটে ৭৬তম হয়েছে।
সেই মাতৃগর্ভ থেকে একসাথে পথ চলা দুই বোন আফসানা ও শাহানা এবার স্নাতক ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন; ক্যাম্পাসের বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে তাদের আগমন।
এ বিষয়ে সামিয়া জাহান আফসানা বলেন, ছোটবেলা থেকে প্রায় একই রকমভাবে বড় হয়েছি। দুজনের স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় আমরা ওয়েটিংয়ে আছি দেখা যাক কী হয়। তবে জাহাঙ্গীরনগরে বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে দুজনে ভালো করার বিষয়টি আমাদের খুবই আনন্দিত করেছে।
টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার মিলপাড় এলাকায় শিক্ষক দম্পতি বাবা মো. আল-আমীন ও মা আফিয়া আক্তারের ঘরে ২০০৬ সালে আফসানা ও শাহানার জন্ম। খুব কাছাকাছি চেহারার দুই বোন এলাকায়ও বেশি পরিচিতি। স্কুল জীবন থেকেই একসাথে পড়াশোনা করছেন। সখীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন দুজন। পরে কুমুদিনী সরকারি কলেজেও একসাথে পড়াশোনা করেছেন। এইচএসসি পরীক্ষায়ও তারা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে তারা ভর্তি হয়েছেন রেটিনা মেডিকেল কোচিং সেন্টারে। মেডিকেলে আশানুরূপ ফল না করায় আগামী বছর আরেকবার সুযোগ নিতে চান তারা।
তাদের বাবা উপজেলা জামায়াতের আমির ও বড়চওনা কুতুবপুর কলেজের অধ্যাপক আল আমীন মিয়া জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিল। স্কুল কলেজের শিক্ষকরা তাদেরকে অনেক বড় স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এতেই অনুপ্রাণিত হয়ে মেডিকেল সায়েন্সে পড়ার আগ্রহ জন্মে। মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে এখনো বিভোর তারা। তাদের একজন সামিয়া জাহান আফসানা ইতিমধ্যে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অপেক্ষা তালিকায় রয়েছেন। তবে এবার সুযোগ না পেলেও চিকিৎসক হওয়ার যে স্বপ্ন তারা বুকে লালন করছে, পরের বার কঠোর পরিশ্রম করে সেটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে।
তিনি আরও বলেন, মফস্বল থেকে পড়াশোনা করে বড় হলেও তাদেরকে যে স্বপ্ন শিক্ষকরা দেখিয়েছেন সেদিকেই তারা এগোচ্ছে। আমি চাই তারা মানুষের সেবায় এগিয়ে যাক।
Leave a Reply