বছরের প্রথম দিনে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির বেশিরভাগ পাঠ্য বই পায়নি মুন্সিগঞ্জের শিক্ষার্থীরা। জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের কয়েকটি স্কুলে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার অষ্টম শ্রেণির তিনটি বিষয়ের বই বিতরণের কথা থাকলেও কিছু সংখ্যক স্থানে দেয়া হয়েছে সীমিত পরিসরে।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, জেলায় মাধ্যমিকে নতুন বইয়ের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ তবে এখন পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫৭ হাজার বই।
টংঙ্গীবাড়ী উপজেলার শিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত করে। এখানে মোট ৪৩৯ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাক প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি সকল বিষয় এবং তৃতীয় শ্রেণির দুইটি বিষয়ের বই দেয়া হয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কোনো বই দেয়া হয়নি।
প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একই অবস্থা সদরের বকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং টংঙ্গীবাড়ী উপজেলার শিলপরাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। সেখানেও চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কোনো বই দেয়া হয়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানান, জেলায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থী মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি বাদে সকল শ্রেণির বই দেয়া হয়েছে। বাকি বই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, জেলার অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপিঠ আলবার্ট ভিক্টোরিয়া যতীন্দ্র মোহন সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম জানান, শুধু দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের বই দেয়া হয়েছে। বাকি কোন শ্রেণির বই দেয়া হয়নি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ইসমাইল হোসেন জানান, মুন্সিগঞ্জে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী রয়েছে তিন লাখের বেশি। তাদের জন্য বই লাগবে ত্রিশ লাখের বেশি। কিন্তু আমরা (১ জানুয়ারি) পর্যন্ত বিতরণ করেছি শুধু দশম শ্রেণির তিনটি বিষয়ের ৫৭ হাজার বই। তিনি আরও জানান, আগামী ২০ তারিখের মধ্যে সকল বই বিতরণ করা হবে।
Leave a Reply