মৃণাল চৌধুরী সৈকত
দেশব্যাপী চলমান লক-ডাউন শিথিল করে খোলে দেয়া শপিংমল, দোকানপাট, মার্কেটসহ গনপরিবহন এবং পশু’র হাটে অন্তত ৮০% নিশ্চিত করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।আর এ কাজে সরকার বা বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জন-প্রতিনিধি, সংবাদকর্মী, গন-পরিবহন মালিক থেকে শুরু করে চালক, স্থানীয় হাট বাজার, মার্কেট, শপিংমল এবং দোকান মালিকসহ ব্যবসায়ী, গরুর হাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পরিচালনা পরিষদ বা ইজারাদার, ক্রেতা-বিক্রেতা বা সংশ্লিষ্টদের নজরাধিসহ গন-সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরী ।নয়তো কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ বিস্তার, আক্রান্ত এবং মৃত্যু নিয়ে শংঙ্কা রয়েছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ দেশের সচেতন মহলের।তাই আমাদের উচিৎ, নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যকে সচেতন করা এবং সরকারী বিধিনিষেধ মেনে চলা। মনে রাখতে হবে,আমি বাঁচলে-আমার পরিবারের সদস্যরা বাঁচবে, পরিবারের সদস্যরা বাঁচলে-সমাজের মানুষ বাঁচবে, আর সমাজের মানুষ বাঁচলে, দেশ এবং জাতি রক্ষা পাবে।
বিশ্বজুড়ে প্রায় দেড় বছর যাবৎ প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের তান্ডবে অচল হয়ে পড়েছে দেশ-বিদেশের সকল প্রকার কার্যক্রম।আমাদের দেশও তার ব্যতিক্রম নয়। মহামারী করোনা তান্ডবে যতই দিন যাচ্ছে দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তো হচ্ছেই।শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, ব্যবসা, সর্বপরি দেশের বিভিন্ন উন্নয়ণের ক্ষেত্রে সরকারসহ সকল শ্রেনীর ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে নানাবিধ প্রতিকুল অবস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যেভাবে করোনা সংক্রমণ ও শনাক্তসহ বা মৃত্যু’র সংখ্যা বাড়ছে, তাতে করে শংঙ্কাতো কাটছেই না বরং নিন্ম এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ অবস্থা ধারণ করতে চলেছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশজুড়ে করোনা নিয়ন্ত্রনে রয়েছে নানা বিধিনিষেধ। ঈদুল আজহা’য় ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায় মহান সৃষ্টিকর্তাকে রাজি, খুশি করার জন্য পশু কোরবানী দিয়ে থাকেন। তাই পশু কেনা-বেচা ঈদের একটা বড় অংশ। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকাকালে কোরবানীর পশুর হাটগুলো অত্যন্ত জন-সমাগমপূর্ণ হয়ে থাকে।কিন্তু বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যপী মহামারী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশে কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাটের অনুমতি দিয়েছে সরকার। পশুর হাটে কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে, এ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে একটি গাইডলাইনও দেয়া হয়েছে। সারা দেশে পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা, ক্রেতা-বিক্রেতা কিভাবে হাটে আসবেন, হাট কিভাবে বসবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে একটি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালু করেছে সরকার।বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর দুটি সিটিতে পৃথক ১৯ টি অস্থায়ী পশু হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এদিকে রাজধানীসহ গাজীপুর জেলা বা সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন জেলা,সিটি কর্পো্রেশনে, উপজেলা, পৌরসভা এলাকায় স্থায়ী পশুর হাটগুলোতে কোরবানির পশু বেচাকেনায় সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম হয়। ফলে যত ধরনের সরকারী নির্দেশনাই থাকুক না কেনো, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পারে না পশুর হাট ইজারাদার, পরিচালনাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। এমন অভিযোগ থেকেই যায় হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। দেশব্যাপী কােভিড-১৯ করোনার চলমান পরিস্থিতিতে পশুর হাটগুলোতে জন-সমাগম এবং চলমান লক-ডাউন শিথিলতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যগত কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, কোন দিকে যাবে করোনার আক্রমনতার ভয়াবহতা, তা কেউ বলতে পারে না। রাজধানীসহ সারাদেশে যেহেতু করোনা সংক্রমনের ঊর্ধ্বগতি রয়েছে, সে জন্য চারদিকে আতঙ্কটাও বেশী। অনুমোদিত পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের প্রতি সর্বস্তরের মধ্যে কঠোর সতর্কতার ব্যবস্থা অনিবার্য। বিপদ আর শঙ্কা আমাদের মাথার উপর ঘুড়ছে। সার্বক্ষনিক করোনার আতঙ্কে আর জীবন-জীবিকার টানাপোড়েনে বিষন্নতা বিরাজ করছে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। করোনা সংক্রমনের ঊর্ধ্বগতি দেখে সরকার প্রথমে ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কঠোর লকডাউন ১৪ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করেন সরকার। তবে ঈদুল আজহা ও দেশবাসীর সুবিধার্থে ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রায় সকল প্রকার বিধিনিষেধ শিথিল করেছে সরকার। এসময় গণপরিবহন চালু থাকবে, পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাট করা যাবে। শপিংমল, দোকানপাট খোলা থাকবে। তবে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবার কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপণও জারি করা হয়েছে। এতো চেষ্টার পরও কতটুকু অনুকূলে থাকবে করোনার নিয়ন্ত্রণ তা কারো জানা নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যদি কোরবানীর পশুর হাট কিংবা যানবাহনে উপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে করোনা সংক্রমনের ব্যাপকতা আরও উদ্বেগ জনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা। সাধারনত বিভাগ, জেলা, সিটি বা পৌর শহরে হাট বাজারগুলোতে সচেতনেতা কিছুটা মানা হয়ে থাকে বটে, কিন্তু উপজেলা, থানা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে যানবাহন বা হাট বাজারগুলোতে তেমনটা স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। ফলে করোনা সংক্রমনের শুরুর দিকে দেশের বড় বড় শহরগুলোতে করোনার প্রভাব বেশি থাকলেও বর্তমানে গ্রামের লোকজনেরও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বাড়ছে। কারণ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঈদুল ফিতর (রমাজানের ঈদ) উদযাপনের জন্য শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়েছিলেন অসংখ্য শ্রমজীবি মানুষ। তাদের কারো না কারাে মাধ্যমে গ্রামে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছ। এবারও তাই হতে চলেছে লক-ডাউন শিথিলতার কারণে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে সকল শ্রেনী-পেশার জন-সাধারণকে। সরকারি বিধি নিষেধে ‘শিথিলতা’র অপ-ব্যবহার করে যেন লোকজন কোরবানীর পশুর হাটে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো তৎপর হতে হবে অবশ্যই। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্বসহ অন্যান্য সরকারি নির্দেশনা নিশ্চিত করতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, গনমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। যানবাহনসহ পশু ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে অন্তত ৮০% নিশ্চিত করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।
Leave a Reply