ভূমিকম্পনের সময় যা করণীয় :
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও ডেকে আনতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে মনোবল শক্ত রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রে বলা হয়েছে, ২১ নভেম্বর শুক্রবার ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭। এটি মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্প। এর পর আরো একাধিকবার ছোট মাঝারী ভুমিকম্পন হয়েছে।
১. ভূকম্পনের সময় বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে টেবিল, ডেস্ক বা শক্ত কোনো আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিন ॥
২. অনুভূত হলে আতঙ্কিত হবেন না ॥
৩. বিল্ডিংয়ের কলাম ও পিলার ঘেঁষে আশ্রয় নিন ॥
৪. রান্না ঘরে থাকলে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দ্রুত বেরিয়ে আসুন॥
৫. ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু বাড়ি, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে খোলাস্থানে আশ্রয় নিন ॥
৬. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে শিশুদের স্কুল ব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত বেঞ্চ অথবা শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে বলুন॥
৭. ভাঙা দেয়ালের নিচে চাপা পড়লে বেশি নড়া চড়ার চেষ্টা করবেন না। কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন, যাতে ধুলা বালি শ্বাসনালিতে না ঢোকে ॥
৮. ওপরতলায় থাকলে কম্পন বা ঝাঁকুনি না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে লাফ দিয়ে বা লিফট ব্যবহার করে নামা থেকে বিরত থাকুন॥
৯.একবার কম্পন হওয়ার পর আবারও কম্পন হতে পারে। তাই সুযোগ বুঝে বের হয়ে খালি জায়গায় আশ্রয় নিন॥
১০.গাড়িতে থাকলে ওভার ব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামান। ভূকম্পন না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরে থাকুন ॥
১১. বা ঝাঁকুনি থামলে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ুন এবং খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিন॥
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ১৫দিনে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প হয়েছে বাংলাদেশে। গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ভূমিকম্পে আবারও কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চল। রিখটার স্কেলে এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ৩৮ কিলোমিটার দূরে নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার পাটুয়ারপাড় এলাকা।
এই ভূকম্পনেই আতঙ্কিত হয়ে ওঠে ঢাকার নগরজীবন থেকে শুরু করে সারাদেশের মানুষ। আতঙ্কিত হয়ে ওঠাই স্বাভাবিক। কারণ, এক-দুবার নয়, মাত্র ১৪ দিনে বাংলাদেশে একাধিকবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদী, গাজীপুরের মতো ঢাকার আশপাশের অঞ্চল ছিল বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আর সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি হয় গত ২১ নভেম্বর। ওই দিন ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ঢাকাসহ সারাদেশ কেঁপে উঠেছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশেই উৎপত্তিস্থল ছিল পাঁচটি ভূমিকম্পের। এর প্রথমটি ছিল ২১ নভেম্বরের ঠিক দুই মাস আগে ২১ সেপ্টেম্বর। এদিন ৪ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তি হয় সিলেটের ছাতকে।
এরপরের ভূমিকম্প ছিল ২১ নভেম্বর, মাত্রা ৫ দশমিক ৭। পরদিন ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে ৪ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী জেলা মাধবদী এলাকায়। এর ৫ দিন পর, ২৭ নভেম্বর বিকেল সোয়া ৪টায় ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, উৎপত্তিস্থল ঢাকার পাশের জেলা গাজীপুরের টঙ্গীর ঢালাদিয়া এলাকা।
তবে বারবার ভূমিকম্প কেবল বাংলাদেশেই নয়, সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমার, ভারত, নেপাল, এমনকি চীনের তিব্বত সীমান্তেও ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে। চলতি বছরের ১১ মাসে এই অঞ্চলে ২৮৫ বার ভূমিকম্প হয়েছে। প্রায় প্রতিটিই ৪ মাত্রার উপরে ছিল না।
গত সোমবার ১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মিয়ানমারের ফালামে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকেও এটি অনুভূত হয়েছে। ঢাকার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল ৪৩১ কিলোমিটার। ওই ভূমিকম্প বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৫৫ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯।
ঢাকার খুব কাছেই দুই ভূমিকম্পের উৎস শনাক্ত, ঝুঁকিতে যেসব এলাকা :

বিশেষজ্ঞরা জানায়, টেকটোনিক প্লেটে বাংলাদেশের যে অবস্থান, তাতে দুটো প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে, পশ্চিমে ইন্ডিয়ান প্লেট আর পূর্ব দিকে বার্মা প্লেট। আর বাংলাদেশের উত্তর দিকে আছে ইউরেশিয়ান প্লেট।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ভারতীয় প্লেটটি ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বার্মা প্লেটের নিচে, অর্থাৎ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রামের নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। আর এই তলিয়ে যাওয়ার কারণে একটা সাবডাকশন জোনের তৈরি হয়েছে।
হুমায়ুন আখতার আরও বলেন, এই জোনের ব্যাপ্তি সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত । পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চল এর মধ্যে পড়েছে। এখানে বিভিন্ন সেগমেন্ট আছে। আমাদের এই সেগমেন্টে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার শক্তি জমা হয়ে আছে। এটা বের হতেই হবে।
তার মতে, এখানে প্লেট লকড হয়ে ছিল। এর অতি সামান্য ক্ষুদ্রাংশ খুলল বলেই গত ২১ নভেম্বর শুক্রবারের ভূমিকম্প হয়েছে। এটিই ধারণা দেয় যে সামনে বড় ভূমিকম্প আমাদের দ্বারপ্রান্তে আছে।
তবে ভূমিকম্প নিয়ে উৎকণ্ঠিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদ ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ২১ নভেম্বর ভূমিকম্পের ‘আফটার শক।
২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানের হনশু দ্বীপের টোহুকু অঞ্চলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প এবং এর জেরে সৃষ্ট সুনামির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর কেবল ৬ মাত্রারই ৪৫০ বার আফটার শক হয়েছিল জাপানে। আরও অসংখ্যবার ছোট ছোট আফটার শক হয়েছিল তখন।
ভূকম্পনবিদ্যার গবেষক মমিনুল ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশে ২১ নভেম্বরের পর একাধিকবার আফটার শক হচ্ছে। এই আফটার শক বহুদিন ধরে হতে পারে, কমপক্ষে আরও তিন মাস হতে পারে। ২ মাত্রার নিচের ভূকম্পনগুলো আমাদের (বাংলাদেশে) সিস্টেমে ধরা পড়ে না।
ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলো গত কয়েকদিনে একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোরে ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়ানোর পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন-ঢাকার খুব কাছেই সক্রিয় হচ্ছে একটি নতুন ভূমিকম্প উৎস, যার প্রভাব দিনে দিনে বাড়ছে।
প্রথম বড় আঘাতটি আসে ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, যা রাজধানী থেকে মাত্র ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরে। ফলে মুহূর্তেই কম্পন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঢাকা শহর ও আশপাশের এলাকায়। মাত্র দুই সপ্তাহে ঢাকায় অন্তত সাত দফা কম্পন অনুভূত হয়েছে, যার ছয়টির উৎসই নরসিংদী।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, একই স্থান থেকে বারবার কম্পন হওয়া আফটারশক হিসেবে স্বাভাবিক হলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ২২ নভেম্বর সকালে পলাশে ৩.৩ মাত্রার কম্পন, একই দিন সন্ধ্যায় ৪.৩ এবং ৩.৭ মাত্রার দু’টি কম্পন এবং ২৭ নভেম্বর ঘোড়াশালে ৩.৬ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়। সর্বশেষ ৪ ডিসেম্বর শিবপুর থেকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প আবারও ঢাকাকে কাঁপিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন বড় ভূমিকম্পের সতর্ক সংকেত হতে পারে। কারণ বাংলাদেশে অবস্থিত সক্রিয় প্লেট সীমান্তে। দেশের সম্ভাব্য দুটি বড় ভূমিকম্প উৎস হলো ডাওকি ফল্ট-যা শিলং মালভূমি থেকে ময়মনসিংহ, জামালগঞ্জ হয়ে সিলেট পর্যন্ত-এবং আরাকান ফল্ট, যা সিলেট থেকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত এবং সেখান থেকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা পর্যন্ত প্রসারিত। বিশেষজ্ঞরা আরাকান ফল্টকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছেন।
গবেষণায় ঢাকার ১৫টি এলাকা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে: সবুজবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী, উত্তরা, সুত্রাপুর, শ্যামপুর, মানিকদি, মোহাম্মদপুর, পল্লবী, খিলগাঁও এবং পাড্ডা। ৩২টি এলাকার ভৌত কাঠামোর মূল্যায়নে দেখা গেছে, পুরান ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চল তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ; তবে উত্তরাংশের কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, মানিকদি ও গাবতলী উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভবন জরিপ পরিচালনা, ভূমিকম্প সহনশীল নকশায় নির্মাণ নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের সচেতন করতে নিয়মিত মহড়া চালানোর। তাদের মতে, সময়মতো প্রস্তুতি ও সচেতনতা বড় ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনতে পারে।
রাজধানীর কাছে ধারাবাহিক কম্পন, যে সকল সতর্কবার্তা দিলেন বিশেষজ্ঞরা :

দেশে ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ২১ নভেম্বর সকালে। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ওই কম্পনের কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী, যা ঢাকা থেকে মাত্র ৩০–৪০ কিলোমিটার দূরে। রাজধানীর বাসিন্দারা তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন এবং ভবনসমূহ কেঁপে ওঠায় ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী জুড়ে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ আতঙ্ক।
আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, একই স্থানে ধারাবাহিক কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া বা আফটারশক হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বড় কম্পনের পর ছোট মাত্রার যে ধারাবাহিক কম্পনগুলো হয়েছে, সেগুলোকে গবেষণা অনুযায়ী আফটারশক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হওয়া ৫.৭ মাত্রার কম্পনের পর ২২ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে নরসিংদীর পলাশে ৩.৩ মাত্রার মৃদু কম্পন রেকর্ড হয়। সেদিন সন্ধ্যায় আরও দুটি কম্পন অনুভূত হয়, যার একটি ছিল ৪.৩ মাত্রা এবং আরেকটি নরসিংদী অঞ্চলেই ঘটেছিল। ২১ ও ২২ নভেম্বর প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে চার দফা কম্পন রেকর্ড করা হয়। এরপর ২৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে নরসিংদীর ঘোড়াশালে ৩.৬ মাত্রার আরেকটি কম্পন হয়, যা বিশেষজ্ঞদের হিসেবে মোট ছয় দফা কম্পনের ধারাবাহিকতা তৈরি করে।
৪ ডিসেম্বর ভোর ৬টা ১৪ মিনিটে নরসিংদীর শিবপুর অঞ্চল থেকে আবারও ৪.১ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ছোট ও মাঝারি মাত্রার ধারাবাহিক কম্পন বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। তাদের দীর্ঘদিনের গবেষণা বলছে, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় প্লেট সীমান্তে অবস্থিত এবং বড় ধরনের কম্পন ঘটার ঝুঁকি সবসময়ই বিদ্যমান।
গবেষকদের মতে, বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের দুটি প্রধান উৎস রয়েছে। প্রথমটি ‘ডাউকি ফল্ট’, যা ভারতের শিলং মালভূমির পাদদেশ থেকে ময়মনসিংহ-জামালগঞ্জ-সিলেট অঞ্চলে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার জুড়ে । দ্বিতীয় উৎসটি সিলেট থেকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা সুমাত্রা পর্যন্ত যুক্ত-এটিকে বিশেষ ভয়ংকর এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঢাকার ভৌত কাঠামো নিয়ে করা ৩২টি এলাকার জরিপে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলে ঝুঁকি তুলনামূলক ভাবে বেশি। ঘনবসতি, দুর্বল ভবন কাঠামো এবং উদ্ধারকাজের সীমাবদ্ধতা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উত্তরাঞ্চলেও কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, মানিকদী ও গাবতলীসহ বেশ কিছু অঞ্চল উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
2tirgj