শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ট্রিলিয়ন অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হলে আমরাই করতাম: মীর শাহে আলম এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু: শিক্ষামন্ত্রী গাজীপুরে কলকারখানায় স্বস্তি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, প্রজ্ঞাপন জারি বগুড়ার নন্দীগ্রামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কী করবে মোদী কিংবা বিরোধীরা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০২৪
  • ৮৪ বার

ভারতে ৪৭ দিনের নির্বাচনী কার্যক্রম শেষে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। বিজেপি নাকি কংগ্রেস, এনডিএ নাকি ইন্ডিয়া জোট, কারা বিজয়ী হয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তা জানা যাবে আজই (৪ জুন)।
গত ১৯ এপ্রিল থেকে ১ জুন পর্যন্ত ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
লোকসভা নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলো বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) এবং বিরোধী ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স (ইন্ডিয়া)।
বিজেপি হলো ভারতীয় জনতা পার্টি যারা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছে। এনডিএ জোট বিজয় হলে বিজেপি নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসবেন।
অন্যদিকে ‘ইন্ডিয়া’ হলো একসময়ের প্রভাবশালী কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর জোট। রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি ও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা। বর্তমান সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
এ ছাড়া অনেক আঞ্চলিক দলও রয়েছে যেগুলো এ নির্বাচনে লড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আম আদমি পার্টি (এএপি- বর্তমানে দিল্লি ও পাঞ্জাবের ক্ষমতায়) ও তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি- পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায়)।
লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য দরকার অন্তত ২৭২টি আসন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে জানা যাবে ভারতের নতুন সরকারের দায়িত্ব কারা পাচ্ছে।
তবে এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনে এমনও হয়েছে যে, কোনো দল বা জোটই এ ম্যাজিক নম্বর ছুঁতে পারেনি। এ ধরনের পরিস্থিতি ‘ঝুলন্ত সংসদ’ নামে পরিচিত।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফলে এই চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া দেশটির বিরোধী জোট ইনডিয়ারও সংখ্যাগরিষ্ঠতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে দেশটিতে এবার জোট সরকার গঠন ছাড়া কোনও উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিজেপির মুখপাত্র নালিন কোহলি বলেছেন, লোকসভায় কে কতটি আসনে জিতবে তা নিয়ে চূড়ান্ত চিত্র পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।
দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিয়া টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেছেন, “এই মুহূর্তে এটা বলা যায় যে, ৪০০ আসনের জয় অনেক দূরের বিষয়।’’
বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৪০০ আসনে জয় পেতে পারে বলে বুথ ফেরত জরিপের ফলাফলের বিষয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন। বিজেপির এই মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘তবে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে… আসনগুলোর একটি চূড়ান্ত চিত্র পাওয়ার জন্য অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। কারণ বুথ ফেরত জরিপের ফলে আমাদের ব্যাপক বিজয়ের কথা বলেছে। কিন্তু বর্তমানে গণনার যে প্রবণতা, তার এর সাথে মেলে বলে মনে হচ্ছে না।’’
কোহলি বলেন, ‘‘বিজেপি-এনডিএ সরকার গঠন করবে। আর এটা একেবারে শুরু থেকেই অত্যন্ত পরিষ্কার।’’
ভারতের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৯৪ আসনে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি পেয়েছে ২৪১ আসন। আর জোটসঙ্গী তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি)- ১৬, জনতা দল (ইউনাইটেড)- ১৪, লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস)- ৫ ও জনতা দল দুটি আসনে জয় পেয়েছে।
অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী ইনডিয়া জোট ২৩২ আসনে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে কেবল কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি আসন। এছাড়া সমাজবাদী পার্টি- ৩৫, তৃণমূল কংগ্রেস- ২৯, দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজগাম (ডিএমকে)- ২১, শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে)- ১০, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (শারদ পাওয়ার)- ৭, যুবজন শ্রমিক রাইঠু কংগ্রেস পার্টি (ওয়াইএসআরসিপি)- ৪ ও ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) – (সিপিআইএম) চারটি আসনে এগিয়ে আছে।
ভারতের ৫৪৩ আসনের লোকসভায় সরকার গঠনের জন্য কোনও দল বা জোটের ২৭২ আসনে জয় দরকার।
এখন আসুন দেখে নিই মোদী কিংবা বিরোধীরা ২৭২ আসন না পেলে কী হবে?
ঝুলন্ত সংসদ?
লোকসভায় কোনো দল বা জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ২৭২ আসন পেতে ব্যর্থ হলে এ ধরনের পরিস্থিতি ঝুলন্ত সংসদ নামে পরিচিত। এমন দৃশ্যপটে অন্যান্য দলের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি একক-বৃহত্তর দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য একক-বৃহত্তর দলের নেতাকে সাধারণভাবে ১০ দিনের সময় দেন।
যখন লোকসভায় কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারে না এবং নিম্নকক্ষে ঝুলন্ত সংসদ পরিস্থিতি দেখা দেয়, তখন কিছু সম্ভাব্য বিষয় ঘটতে পারে।
কোয়ালিশন বা জোট সরকার গঠন
জোট সরকার গঠনে রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনায় বসে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছাতে পারে। জোট সরকার সাধারণত জোটের সবচেয়ে বড় দলের নেতার নেতৃত্বাধীন হয়ে থাকে।
মাইনরিটি সরকার
লোকসভায় সবচেয়ে বড় দল সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। এক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সরকারে বিল পাস করতে এবং আস্থা ভোট পেতে একক বৃহত্তম দলের অন্যান্য রাজনৈতিক দল বা নিম্নকক্ষের স্বতন্ত্র সদস্যদের সমর্থনের প্রয়োজন হবে।
নতুন করে নির্বাচনের আহ্বান
যদি কোনো দল বা জোট সরকার বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সরকার গঠন না করতে পারে, তবে রাষ্ট্রপতি লোকসভা বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারেন। এটি তখনই ঘটে যখন জোট সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সমস্ত আলোচনা ব্যর্থ হয়।
যে যে সময়ে ভারত ঝুলন্ত সংসদের সাক্ষী
১৯৬৭ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর কোনো দল বা জোট সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এতে ঝুলন্ত সংসদ পরিস্থিতি দেখা দেয়। পরে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে একটি জোট সরকার গঠিত হয়।
১৯৮৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর কোনো দল বা জোট সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেবার ভিপি সিংয়ের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠিত হয়।
১৯৯৬ সালে কোনো দল বা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে আরও একবার সংসদ ঝুলে যায়। সেবার প্রথমে এইচডি দেবেগৌড়া এবং পরে আইকে গুজরালের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠিত হয়।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories