মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না: তথ্য উপদেষ্টা সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোনো কোনো মহল গার্মেন্টস উৎপাদন ব্যাহত করতে উসকানি দিচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী পেলেন আর্থিক সহায়তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ২টি দেশীয় পাইপগান ও ২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার ময়মনসিংহের নান্দাইলে চলন্ত ট্রাকে আগুন, চালকের বিচক্ষণতায় রক্ষা পেল নান্দাইল বাজার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ৪ গাড়ির ত্রিমুখী সংঘর্ষে ভ্যান চালক নিহত আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ হামে ৩০ বছরের মধ্যে প্রথম শিশুমৃত্যু দেখল নিউইয়র্ক মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

বিশ্ব ইজতেমার চারপাশে ইজারার নামে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে কোটি টাকার চাদাবাজী

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২২২ বার

ঐতিহ্যবাহী কহর দরিয়া তুরাগ নদের তীরে এবং সোনাবানের শহর খ্যাত টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ময়দানের চারপাশে খোলা মাঠ এবং বিভিন্ন শল্পি-কলকারখানার অভ্যন্তওে এমনকি অঞ্চলিক সড়কের পাশে অস্থায়ী দোকান বসানোর ইজারা নিয়ে কতিপয় অর্থলোভী বিভিন্ন পন্য-সামগ্রির দোকানপাট বসিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবছর এসব দোকান বসিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানীসহ সরকারের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি অপচয় এবং দুর-দুরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কয়েকগুন বেশী অর্থ আদায় করায় এ বছর ব্যবসায়ীরা ইজতেমা ময়দানে এসে ব্যবসা করতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়া স্থায়ী দোকানের সামনে রাস্তার উপর বা পাশে ইজারার নামে দোকান বসানোকে কেন্দ্র ইতমিধ্যে দুই পক্ষের হাতাহাতীর ঘটনা ঘটেছে। গত ১৪ জানুয়ারি দুপুরে টঙ্গী পশ্চিম থানার টঙ্গী বাজার এলাকায় আশরাফ সেতু শপিং কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
স্থায়ী বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী বাজার এলাকায় আশরাফ সেতু ক্ষুদ্র সমবায় সমিতির প্রায় ৫০০ ব্যবসায়ী স্থায়ী ভাবে এখানে ব্যবসা করে আসছেন। বছওে একবার মাত্র ৮/১০ দেিনর জন্য বিশ^ ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মার্কেটের সামনে অস্থায়ী দোকান বসানোর কথা বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে বরাদ্দ দিয়েছে মার্কেট মালিক সমিতি। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে দোকান ঘর বন্ধ করে মাকের্টের মূল ফটকের সামনে আন্দোলন করেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যাক্তি এসে বাধা দিলে দুই পক্ষে মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
দুর-দুরান্ত থেকে আসা একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মন্নু টেক্সটাইল মিলস প্রাঙ্গন, অলিম্পিয়া মাঠ ও বর্জ তুলা মার্কেট এ ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নেতাকর্মীদের চাদার টাকা দিতে গিয়ে আমাদেও লোকশান গুনতে হয়। এছাড়া দোকান মালিক বা ইজারাদারদের সাথে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করলেও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল বাড়িয়ে কয়েকগুন বেশী টাকা দিতে হয়। চুক্তির বাইরে তাদের চাহিদা মোতাবেক টাকা না দিলেই চলে অত্যাচার। ইজতেমায় দোকান নিয়ে গিয়ে আমাদেও লাভ হয় না। আমরা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য সেখানে দোকান করতে যাই। এবছর যাবো না। ইজতেমা কর্তৃপক্ষের উচিৎ ব্যবসায়ীদেও জন্য ইজতেমা কপ্লেক্স বা মার্কেট নির্মাণ করা। যাতে ব্যবসায়ীরা নিভৃঘেœ ব্যবসা করতে পারে।
আশরাফ সেতু শপিং কমপ্লেক্স ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম শিশির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ব্যবসা করে আসছ্ ইজতেমা উপলক্ষে অস্থায়ী দোকান বসলে আমাদের জন্য সমস্যা হয়। বছরে একটি মাত্র ইজতেমায় ব্যবসা করবো তাতেই মালিক পক্ষের বিভিন্ন তাল-বাহানা। তিনি বলেন লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে দোকান ঘর নিয়েছি। মাকের্টের সামনের অস্থায়ী দোকান ঘর দিলে মাকের্টের ভেতরে কেউ প্রবেশ করবে না। এতে প্রায় ৫০০ ব্যবসায়ীর ক্ষতি হবে।
সমিতির কার্যকারী সদস্য মশিউর রহমান বলেন মালিক সমিতি কিছু টাকার বিনিময়ে আমাদের ক্ষতি করে মার্কেটের সামনে অস্থায়ী দোকান বসানোর চেষ্টো করছে। পরে আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচলা করার পর তারা জানান, কোনো অস্থায়ী দোকান বসতে দেবেন না। তবুও বাইরের কিছু লোকজন এসে আমাদের মার্কেটের সামনে দোকান বসাতে চাচ্ছে। আমরা চাই এ সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হোক। অন্যথায় কঠিন আন্দোলনের ঘোষনা দেয়া হবে।
এবিষয়ে মার্কেট সমিতির সভাপতি বাছেদ খান বলেন, প্রতি বছরই মার্কেটের সামনের অংশটুকু ইজতেমায় ভাড়া দিয়ে আসছি। কিছু অস্থয়ী দোকান বসলে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের উপকার হয়।
এদিকে ব্যবসায়ীদের বিক্ষুব্ধ হওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ইজারাদারদের সঙ্গে মিটিং করে অস্থায়ী দোকানঘর বরাদ্দ বন্ধ করে দেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ব্যবসায়ীরা চলে যান।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান বলেন, মাকেটের ব্যবসায়ীদের সমস্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অপরদদিকে, নিউ অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলস, নিউ মন্নু ফাইন কটন মিলস, আশরাফ সেতু, আশরাফ টেক্সটাইলস, হোন্ডা রোড, আরআইআইরোড, কামারপাড়া, কামারপাড়া রোড, আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান দোকান বসানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories