মৃণাল চৌধুরী সৈকত
মহামরী করোনার ভয়াবহতা যখন চরমে, তখন একদিকে বন্যার আশংঙ্কা, তার উপর গত কয়েকদিনের একটানা বৃষ্টিতে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু জ্বরের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগে পার্দুভাব লক্ষনীয়। শহর, উপ-শহর, নগর-মহানগর গুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে ব্যাপক হারে মশা বৃদ্ধি পাওয়ায়-মশার যন্ত্রণায় বন্দর নগর শহরবাসী রীতিমতো অতিষ্ঠ। ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশার উৎপাত শুরু হয় মূলত এপ্রিল মাসে। ইতিমেধ্য ঝড় বৃষ্টিতে কিউলেক্স মশার উৎপাত কিছুটা হয়তো কমেছে, কিন্তু বেড়েছে এডিসের বংশবিস্তার। তাই মশক নিধনে নিয়মিত অভিযান আরো জোরদার করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। এ জন্য বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনকেই বেশি দায়ী করছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, ডায়রিয়াসহ পানি ও কীট-পতঙ্গবাহিত রোগ ক্রমেই বাড়বে। ইতিমেধ্য করোনার পাশাপাশি এ প্রকোপ বেড়েই চলেছে। বাস্তবে দেখাও যাচ্ছে তাই। সিঙ্গাপুর আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত দেশ। তাদের পরিবেশ রক্ষা ও মশা নিধনব্যবস্থা আমাদের তুলনায় অনেক ভালো। তা সত্তেও ২০২০ সালে বাংলাদেশের তুলনায় সিঙ্গাপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার ছিল অনেক বেশি। জলবায়ুর পরিবর্তন আমরা রোধ করতে পারব না। কিন্তু আমরা মশা নিধনে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি। শুধু সিটি করপোরেশন সেটি কখনোই করতে পারবে না, যদি না নাগরিকরা সচেতনভাবে সহযোগিতা করেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস প্রজাতির মশা। এ মশা নালা-নর্দমার নোংরা পানিতে নয়, স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। সাধারণত বাড়ির আশপাশে ফেলে রাখা পরিত্যক্ত জিনিস (টায়ার, ডাবের খোসা, আইসক্রিম বা দইয়ের পাত্র কিংবা অন্যান্য জিনিস, যেগুলোতে বৃষ্টির পানি জমতে পারে এবং ঘরের ভেতরে জমিয়ে রাখা পানি বা ফ্রিজের পেছনে, ফুলের টব ইত্যাদিতে জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে। ডেঙ্গু নিয়ে এত হৈচৈয়ের পরও সিটি করপোরেশনগুলোর অভিযান নেহাৎই অপ্রতুল।এদিকে শহরের প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িতে মশা জন্মানোর উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। মশক নিধন কর্মীদের ঘরের ভেতরে কিংবা অন্য অনেক জায়গায় প্রবেশাধিকার থাকে না। ফলে এডিস মশা নিধন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বা পরিবারেরর সদস্যদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সিটি কপের্ারেশন বা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ঢাকঢোল পিটিয়ে কয়েক দিনের অভিযান পরিচালনা করে খুব বেশি লাভ হবে না। সারা বছরই মশা নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। তার জন্য চাই জন-সচেনতা বৃদ্ধি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নগরবাসীদের সার্বিক সহযোগীতা প্রদানসহ হতে হবে সচেতন।নয়তো করোনা মহামারীর পাশাপাশি প্রকৃতিক দূর্যোগ বন্যা আর সেই সাথে ডেঙ্গু মশার প্রভাবের ফলে বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদের বেঁচে থাকা দায় হয়ে দাঁড়াবে বৈকি !
Leave a Reply