সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

সুষ্ঠ নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩
  • ২৮ বার

পশ্চিমাদের চাপ উপেক্ষা করেই একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে আগাচ্ছে বাংলাদেশ। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আন্তর্জাতিক মহলসহ বিদেশি দূতদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শনিবার ভারতীয় বাংলাদেশি হাইকমিশনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব জানান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ৫০টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের ঢাকায় তাদের মিশন খোলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসাথে আসন্ন নির্বাচনের পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছি।
পররাষ্ট্র সচিব এসময় বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন প্রধানদের একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দেন। শুক্রবার রাতে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর সাথে আলাপকালে সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের বাধ্যতামূলকভাবে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটা জনগণের চাওয়া। সাংবিধানিকভাবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ৫০টি দেশের ৩০ জন রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানরা অংশ নেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানদের অবহিত করেন। এতে দক্ষিণ আমেরিকা, পূর্ব ইউরোপ এবং আফ্রিকার অনেক দেশের রাষ্ট্রদূতরা যোগ দেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তারা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বাসভবন এমনকি পুলিশ কর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং জনসাধারণের সম্পদ ভাঙচুরসহ সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে। তারা পরিবহনে অগ্নিসংযোগ করছে। বিরোধীদের হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রার সঙ্গে বৈঠকে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হয়ে যাওয়া টু প্লাস টু নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমরা দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তৃতীয় দেশ নিয়ে আলোচনা করি না। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব তাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে দেশের জনগণই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। ভারত অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি অন্য সব দেশ আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে সম্মান জানাবে। বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য দেশের পরিস্থিতির তুলনা করা যায় না। প্রতিটি দেশের নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ব্যবস্থা রয়েছে। এটা রাতারাতি পরিবর্তন করা যাবে না।
বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনের বৈধতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘নির্বাচনে যোগ দিতে চাইলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করতে প্রস্তুত। এটা কোনো দলের অংশগ্রহণের প্রশ্ন নয়, এটা জনগণের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে। যেখানে ভোটাররাই মুখ্য।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংলাপ সম্ভব কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘সরকার এতদিন সংলাপের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু এখন সে সময় আর নেই। সংলাপের পূর্বশর্ত হিসেবে তারা বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতিষ্ঠার দাবি করেছিল। যেটা সম্ভব না বলেও সংলাপের বিষয়টি আর আগায়নি। ’
বিরোধী দলের বিভিন্ন নেতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘২৮ অক্টোবর বিরোধী দল হরতাল-অবরোধের ডাক দিলে ওই নেতাদের নির্দেশে গণপরিবহনে আগুন দেওয়া হয়। এমনকি ট্রেনও রেহাই পায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কিছু নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories