একাত্তর সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, এখনও সেভাবে মানুষ এবং যানবাহন পোড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষ পুড়িয়ে কোন কিছু অর্জন করা যায় না। এটা ভুল। অর্জন করতে হলে জনগণের শক্তির দরকার হয়। জনগণের পাশে থাকতে হয়।
আজ মঙ্গলবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং ২০২২-২৩ সালে সশস্ত্র বাহিনীর র্সবোচ্চ শান্তিকালীন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘অগ্নিসন্ত্রাস বা জ্বালাও পোড়াও মানুষের জীবনটাকে অতিষ্ঠ করে তোলে। আমি জানি না একটা মানুষ কিভাবে জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে মারে। সেটা দেখেছিলাম একাত্তর সালে। পকিস্তানী হানাদারবাহিনীরা যা করতো, বস্তিতে আগুন দিত, মানুষ বেড়িয়ে আসলে সাঙ্গে সঙ্গে গুলি করে মেরে ফেলে দিত। আর এরপরে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ২০১৩-১৪ সালে, আবার এই এখন ইদানিং সেই অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে। কিভাবে একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে পোড়াতে পারে? এটাই দুঃখজনক। এদের চেতনা হোক সেটাই আমি চাই।
তিনি আরো বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের অগ্রযাত্রা শুরু হবে। তার প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে। কারণ নানা ধারণের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র চলে। এগুলোর উত্তরণ ঘটিয়ে আমরা এ পর্যন্ত আগাতে পেরেছি। অন্তত এটুকু বলতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে লাখো বাঙালি স্বাধীনতার জন্য নিজের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সেই স্লোগানটাও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যে ৭ মার্চের ভাষণ এ দেশের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল, সেই ভাষণটাও নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু আজকে সেই ভাষণ আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্থান পেয়েছে। আড়াই হাজার বছরে সামরিক-অসামরিক নেতারা যত ভাষণ দিয়েছে, জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, এটুকু আমরা করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্নগুলো চিহ্নিত করতে হবে। যেখানে গণকবর আছে সেগুলিকে সংরক্ষিত করতে হবে। স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেকটি উপজেলায় আমরা জায়গা দিয়েছি, সেখানে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স তৈরি করে দিচ্ছি। সেখানে একটা জায়গা থাকবে বিভিন্ন স্মৃতি ধরে রাখার জন্য একটা মিউজিয়াম হবে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতে পারবে, স্মৃতিচারণ করতে পারবে। সেই ধরনের ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, নতুন প্রজন্মকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও বীরত্বের ইতিহাস জানা দরকার। স্বাধীনতা পেয়েছি বলেই আজকে আমরা নিজেদের পরিচয় দিতে পারি। কিন্তু একসময় সেটা পারিনি। আগে বিদেশে যেতে হলে করাচিতে গিয়ে ভিসা নিতে হতো। আর এখন আমাদের স্বাধীন দেশে, আমরা স্বাধীনভাবে চলতে পারি।
তিনি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশে নয়, বিদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে অনেকে জীবন দিয়েছেন, তাদের আমি স্মরণ করি।
Leave a Reply