গাজীপুর সিটি করপোরেশনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী বিদ্রোহী) সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আমি মনে করি এখানে নির্বাচন কমিশনারের যে নিরপেক্ষতা ছিল, তা থেকে তারা সরে গেছে। কোনো অদৃশ্য চাপে সরে গেছে, এটা আমি জানি। আমি ন্যায় বিচার চাই। আপিল করব, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টে যাব। আমি সবশেষ লড়াই করে যাব।
আজ রোববার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা হওয়ার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যেহেতু ব্যাংক টাকা পাবে, ব্যাংকে টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) নাম দিয়ে আমার নমিনেশন বাতিল করেছে। আমি ন্যায় বিচার চাই। গাজীপুরের মানুষকে রক্ষা করতে চাই। দেশবাসীর কাছে জানতে চাই একজন প্রার্থী হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে, আমি ন্যায় বিচার পেতে পারি কী না? সেজন্যে আমি সবার সহযোগিতা চাই। আমি চাই নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতার মধ্যে যেন কাজটা করে। আমি অবশ্যই আপিলে যাব। আমি এটার সবশেষ দেখব।
তিনি বলেন, সত্যের জয়ের জন্য আমি লড়াই করছি। আমি সবশেষ পর্যন্ত দেখে যাব। আমি রাষ্ট্র-সরকার-বিচার বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে পক্ষে নিরপেক্ষতা আশা করছি, আমি সবার সহযোগিতা চাই। আমাদের সিটি করপোরেশনের সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার টুকু বাঁচানোর জন্য আমি চেষ্টা করছি।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়ন বাতিল করলেও নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তার মা জায়েদা খাতুনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাইয়ের দিন ছিল আজ (৩০ এপ্রিল)। বেলা ১১টায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রিটানিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম তার কার্যালয় শহরের বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে সাবেক মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম, মেয়র পদের অপর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন ও অলিউর রহমানের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রিটানিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়ায় জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এ সময় জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, যে ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়ন পত্রটি বাতিল হয়েছে ওই ব্যাংকে তিনি ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন। তিনি রহিমের বিপরীতে জামিনদার ছিলেন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণ পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে তিনি ঋণ খেলাপি। সে জন্য তার মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তার মা জায়েদা খাতুনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
Leave a Reply