রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন

গ্রামে গঞ্জে সারাদেশে করোনা’র সচেতনতা আরো বাড়ানো জরুরী

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২ জুলাই, ২০২১
  • ১০১ বার

মৃণাল চৌধুরী সৈকত

দেশে করোনা সংক্রমণ, শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।পর্যাপ্ত করোনা পরিক্ষা করছে না গ্রাম গঞ্জের মানুষ। করতেও পারছে না সুযোগ সুবিধের অভাবে কিংবা জানা অজানার অন্তরালে পড়ে।। যারা পরিক্ষা করে শনাক্ত হয়েছেন সুস্থও হয়েছেন কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলার কারণে ফের তাদেরেক জেঁকে বসতে শুরু করেছে করোনা। সেই সাথে নতুন শনাক্ত ও মৃত্যুতো রয়েছেই। সম্প্রতি দ্রুত করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় হাসপাতাল গুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বটে। জনগণ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন সে ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে গ্রাম গঞ্জ শহর বন্দর সর্বত্রই।নিয়মিত করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং মাস্ক ব্যবহার না করলে জরিমানা করাও একান্ত জরুরী। যদিও এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে জেলা পর্যায়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।তবে তার কার্যত ব্যবস্থা গ্রহন দ্রুত প্রয়ােজন।
সূত্রমতে দেশে গত ২০ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল, এক পর্যায়ে তা ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে আসে। এর মধ্যে সারা দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদানও শুরু হয়। কিন্তু মার্চের শুরু থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শনাক্তের হারও বাড়তে থাকে বর্তমানে যা ভয়াবহতার রুপ নিয়েছে।

শুধু আইসিইউ বা সিসিইউতে নয়, অক্সিজেন লাইন ওয়ার্ডেও নেওয়া হয়েছে। আইসিইউ সুবিধা একজন রোগী ওয়ার্ডে বসেও পেতে পারবে। ওষুধেরও কোনো অভাব নেই, যথেষ্ট অক্সিজেন আছে, ডাক্তার-নার্স আছেন। করোনা চিকিৎসায় যা যা লাগে সেগুলোর ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই তরুণ, আক্রান্তদের অনেককেই আইসিইউতে নিতে হচ্ছে। এখন কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।ইতিমধ্যে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এর অভাবে ৭ জনের প্রাণহানী ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার জন্য প্রচার প্রচারণার মধ্যেই দেশে করোনার বিস্তার ঘটে চলেছে। সংক্রমণের সংখ্যা রাজধানী ঢাকাতেই সবচেয়ে বেশি, তবে ঢাকার বাইরে থেকেও সংক্রমণের খবর আসছে প্রতিদিন ব্যাপক হারে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়ার পরও লোকজন যেভাবে চলছেন তাতে সচেতনতার অভাব স্পষ্ট। সংক্রমিত ব্যক্তিকে পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া এবং তার বাড়িটিকে সামাজিক দূরত্বে রাখা হলে ওই বাড়ি থেকে সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করা সম্ভব। এই কাজটা করতে হবে বাড়ির লোকজনকেই। এক্ষেত্রে সামাজিক সহমর্মিতা সহযোগীতা অত্যন্ত প্রয়োজন। আক্রান্তের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রেখে যথাসম্ভব সহযোগিতা করতে হবে। সেক্ষেত্র, স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। সংক্রমিত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেগুলো সমাধানের জন্য যথাসম্ভব সহযোগিতা করতে হবে। পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে পারেন স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরাও। করোনা সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব, যদি প্রতিটি জনপদের প্রত্যেক বাসিন্দাকে এ বিষয়ে যথেষ্ট মাত্রায় সচেতন করা যায়। ব্যক্তি, পরিবার, মহল্লা, শহর কিংবা গ্রাম যাই হোক সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। স্থানীয় সরকারি প্রশাসনের আন্তরিক তৎপরতার দ্বারা সেই প্রচেষ্টা সম্ভব। মানুষে মানুষে সংস্পর্শ এড়ানোই এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর প্রথম উপায়। ব্যক্তি পর্যায়ে এই সচেতনতা বাড়াতে সরকােরর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে যার যার সামর্থ অনুযায়ী উদ্যোগ নিতে হবে খুব দ্রুতই।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories