ইজতেমার এ পর্বে প্রায় ৮ হাজার বিদেশি মেহমানের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ অংশ নিয়েছেন। এবার মাঠে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় দলের ক্রিকেটার জাভেদ ওমর, সোহরাওয়ার্দী শুভ, শাহাদাত হোসেন রাজীব ও ইলিয়াস সানিসহ অনেকে। ক্রিকেটারদের সবাই মুফতি ওসামার জামাতের সঙ্গী হিসেবে ময়দানে অবস্থান করেছেন। তাদের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী শুভ এক চিল্লার সাথী। বাকিরাও ইজতেমা থেকে নিয়ত করেছেন তাবলিগে সময় দেওয়ার।
মুফতি ওসামার এ জামাতে যোগ দিয়েছেন চিত্রনায়ক ইমনও। তিনিও ইজতেমার শুরু থেকে শেষ অবধি সময় দিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রোববার ২২ জানুয়ারি জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তাজাও এ জামাতের সঙ্গে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন।
ইজতেমা প্রসঙ্গে জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমর বলেন,আমি আজই ময়দানে এসেছি। আমি সব সময়ই তাবলিগের সাথে সম্পৃক্ত থাকি। ইজতেমার ময়দান একটা ব্যতিক্রমী জায়গা। এখানে ইচ্ছা হলেই আপনি বেফাস কথা বলতে পারবেননা।ইচ্ছা করলেই রাগ করতে পারবেননা। মানুষের প্রতি বিনয়ী হওয়ার এক জীবনমুখী শিক্ষা রয়েছে এখানে।
জাভেদ বলেন, আমরা সবাই খাবার খেতে গেলে একটি চামচ ১০ বার পরিষ্কার করি। হাত বার বার পরিষ্কার করি। পৃথক পৃথক ভাবে খাবার খাই। কিন্তু এখানে সবাই একত্রিত হয়ে খাবার খাচ্ছি, একই গ্লাসে পানি খাচ্ছি। এখানে কে রাজার ছেলে আর কে রিকশাচালক তার হিসাব চলে না। এতেই সমাজের কাছে একটা বার্তা যায় যে- দিন শেষে আমরা সবাই সমান। এই জায়গা তৈরি করা খুব জরুরি। এ কারণেই এসেছি। জীবনবোধের এই জায়গাটা সত্যি গুরুত্বপূর্ণ।
সাবেক এই ওপেনার বলেন, মুফতি ওসামা সাহেব আমাকে উত্তম কথা শিখিয়ে দিয়েছেন, বিনয় আর প্রজ্ঞা দিয়ে ইসলামের দিকে ডেকেছেন। আমি অভিভূত। তিনি (ওসামা) জানেন- হাউ টু ইনভাইট পিপল টু আল্লাহ। কখনো ফোর্স না করে ভালোবাসা দিয়ে তার এই আহ্বানও ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। আমি বরাবরই চেষ্টা করছি তাবলিগে লম্বা সময় দেওয়ার। আমার জন্য দোয়া করবেন। খুব শিগগির লম্বা সময় সফর করব ইনশাআল্লাহ।
জাতীয় দলের পেসার শাহাদাত হোসেন রাজীব বলেন, আমি ছোটবেলায় মাদ্রাসার ছাত্র ছিলাম। আমার মায়ের খুব ইচ্ছা ছিল একটি ছেলে ইসলামের পথে থাকুক। কিন্তু মাদ্রাসায় কন্টিনিউ করতে পারিনি। তবে খেলাধুলা যেহেতু বেশি দিন করব না সেহেতু চেষ্টা করছি দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার।
তিনি বলেন, শিখছি কীভাবে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতে হয়। কীভাবে ইসলাম প্রচার করতে হয়। জানতে চেষ্টা করছি, আমাদের নবী (সা.) কীভাবে ইসলাম প্রচার করেছেন। কষ্ট সহ্য করেছেন। এগুলো শেখা গুরুত্বপূর্ণ সকলের জন্য।
জানতে চাইলে মুফতি উসামা ইসলাম বলেন, বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ জাতীয় টিমের সোহরাওয়ার্দী শুভ, শাহাদাত হোসেন রাজীব, ইলিয়াস সানিসহ পূর্ণ ৩ দিন সময় দিয়েছেন। আমি তাদের সাথে দাওয়াতে মেহনতের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি তারাও ইজতেমায় এসে বেশ উচ্ছ্বসিত। আল্লাহ তাদের কোরবানিকে কবুল করুন।
Leave a Reply