শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ট্রিলিয়ন অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হলে আমরাই করতাম: মীর শাহে আলম এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু: শিক্ষামন্ত্রী গাজীপুরে কলকারখানায় স্বস্তি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, প্রজ্ঞাপন জারি বগুড়ার নন্দীগ্রামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

হিমালয়ের শহর জোশীমঠ মাটিতে দেবে যাচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩৮ বার

জোশীমঠ এলাকায় এখনো পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫০০ বাড়ি আর অনেক রাস্তায় বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। শহরটি ধীরে ধীরে মাটিতে ডেবে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি থেকে দ্রুত মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।শুক্রবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী বলছেন শহরবাসীর জন্য বড় বড় আশ্রয়শিবির খোলা হবে।

জোশীমঠ শহর হয়েই হিন্দুদের পবিত্র চারধাম যাত্রা করতে হয়। প্রতিবছর লাখ লাখ তীর্থযাত্রী ওই চারধাম যাত্রা করেন।ওই যাত্রার জন্য যে রাস্তা চওড়া করার কাজ চলছিল, তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে জোশীমঠ এলাকায় সব ধরণের নির্মাণকাজও এখন বন্ধ থাকবে। যেসব হোটেলে ফাটল দেখা গেছে, সেগুলোতে পর্যটকদের থাকা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

সব সময়ে আতঙ্কে আছি, কখন বাড়ি ভেঙে পড়ে
যারা এখনো নিজেদের বাড়িতেই রয়েছেন, তাদের সব সময় এই আতঙ্কের মধ্যে কাটাতে হচ্ছে যে হঠাৎ যেকোনো সময় তাদের বাড়িঘর বসে যেতে পারে।এমনকি প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যেও বৃষ্টি পড়লেই তারা বাড়ির বাইরে চলে যাচ্ছেন, কারণ বৃষ্টিতেই ভূমিধসের সম্ভাবনা বেশি থাকে।জোশীমঠের সুনিল গ্রামের বাসিন্দা এক যুবতী সুনাইনা সাকলানির বাড়িতে গিয়েছিল বিবিসি।

সাকলানির বাড়ির দেওয়ালে, মেঝেতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। তার এবং তার বোন যে ঘরে থাকতেন, সেখানেও বড় বড় ফাটল।‘এই ঘরে আমি আর আমার বোন থাকতাম। একদিকে একটা খাট ছিল, পাশেই ছিল পুজোর জায়গা। অক্টোবর মাসে খুব বৃষ্টি হল যখন, তারপর থেকেই ধীরে ধীরে ফাটল দেখা দেয়। আর এখন তো বিরাট বড় হয়ে গেছে সেগুলো,’ বলছিলেন সুনাইনা সাকলানি।‘বৃষ্টি হলেই বাইরে বেরিয়ে যাই আমরা। ঘরের ভেতরে থাকতে খুব ভয় করে, কে জানে কখন সব ভেঙ্গে পড়বে,’ বিবিসিকে জানাচ্ছিলেন রভিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সুমেধা ভাট।রভিগ্রাম এলাকা কী হারে বসে যাচ্ছে, তা পরিমাপ করার জন্য ভূতাত্ত্বিক স্বপ্নমিতা ভৈদেশ্বরণ পুরনো নথিপত্রের সঙ্গেই ব্যবহার করছেন উপগ্রহ চিত্রও।তার কথায়, গত দুবছর ধরে পরিমাপ নিয়ে তিনি দেখতে পেয়েছেন যে রভিগ্রাম এলাকাটি প্রতিবছর ৮৫ মিলিমিটার করে বসে যাচ্ছে।

বাসিন্দারা বলছেন যে তাদের একেকজন একেকরকম পরামর্শ দিচ্ছেন যে এই এলাকা থেকে চলে গিয়ে অন্য কোথাও ঘর বানাতে। কিন্তু তাদের অনেকেরই সেরকম অর্থের সংস্থান নেই যাতে নতুন করে বাড়ি বানাতে পারবেন তারা।‘আমরা চেষ্টা করছি যাতে যেসব পরিবারের বাড়িতে বড়সড় ফাটল হয়েছে বা যারা বাড়ি একেবারেই থাকার অযোগ্য হয়ে গেছে, তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে,’ বিবিসিকে জানাচ্ছিলেন উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান রঞ্জিত কুমার সিনহা।

নাজুক হিমালয় চাপ সহ্য করতে পারছে না
সর্বশেষ বড় ফাটলগুলি নজরে আসে বৃহস্পতিবার রাতে। তবে গত অক্টোবর মাসে প্রবল বর্ষণের সময় থেকেই ঘরবাড়ি আর রাস্তায় ফাটল দেখা দিতে থাকে জোশীমঠে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত ৫৬১টি বাড়িতে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন হিমালয়ের নাজুক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত ভাবে বাড়িঘর এবং অন্যান্য নির্মাণকাজের চাপ পাহাড় আর নিতে পারছে না।স্থানীয় অ্যাক্টিভিস্ট অতুল সাতি বিবিসিকে বলছিলেন, ‘শুধু জোশীমঠ এলাকা নয়, পুরো উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য এলাকার পরিস্থিতি একইরকম। এই অঞ্চলের পাহাড়গুলো খুবই নাজুক, গোটা হিমালয়ই তো খুব নতুন পাহাড়। এরই ওপরে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় সহ্য করতে হচ্ছে এই অঞ্চলকে।

জোশীমঠ ডেবে যাওয়ার কারণ খুঁজতে বিশেষজ্ঞ দল
কেন দারুণ সুন্দর এই শৈল শহর ধীরে ধীরে দেবে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী জিওলজিকাল সার্ভে, ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট এবং আইআইটি রূরকির বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করেছেন।জোশীমঠে ফাটল এবং ভূমিধসে এলাকা ডেবে যাওয়ার কথা প্রথম সামনে আসে ১৯৭৬ সালে।একটা সরকারি কমিটির নথিতে উল্লেখ আছে যে তারা জোশীমঠ এলাকা ডেবে যাওয়া পর্যবেক্ষণ করতে এসেছিল, কারণ অনেক বাসিন্দা সরকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন।
খবর বিবিসি

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories