সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মে নয়ছয় দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি। অভিযোগ রয়েছে, শুধু পরিবহনেই আত্মসাত হয়েছে, ২শ’ ৭১ কোটি টাকা। তবে শাস্তির আওতায় আসেনি অভিযুক্তরা। বরং সার লুটে জড়িতরাই বার বার পাচ্ছে পরিবহন টেন্ডার।রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিল। এখানকার বিসিআইসি ভবনেই মেসার্স নবাব অ্যান্ড কোম্পানির অফিস।
যাদের ভবনে নবাবের দাপ্তরিক কার্যক্রম, প্রতিষ্ঠানটি তাদেরই আমদানি করা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টন ইউরিয়া সার গুদামে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে। চুক্তি অনুযায়ী যা সরবরাহ হবার কথা ৪০ দিনেই। তবে সেই সার গুদামে পৌঁছায়নি এখনো। পরের বছর এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে কোম্পানিটিকে আবারো দায়িত্ব দেয়া হয় সার পরিবহনের। এবার পরিমাণ আগের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বেশি। সেই সারেরও আজ পর্যন্ত কোন হদিস নেই।মেমার্স নবাব অ্যান্ড কোম্পানি স্বত্ত্বধিকারী নবাব খান জানান, করোনায় ডিলাররা লকডাউনের জন্য সার ওঠায় নাই। যার ফলে প্রচুর সার মজুত রয়েছে।এই অন্ধকার গলির মতোই যেন আলোহীন দেশের সার পরিবহন ব্যবস্থা। দুই বছরে ২৭১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের সার আত্মসাত হলেও তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই বিসিআইসির। বরং নবাব অ্যান্ড কোম্পানির রাজত্বে ডালপালা ছড়াতেই সাহায্য করেছেন কর্মকর্তারা।নবাবের মতোই সার বিপননের আরেক রাঘোব-বোয়াল মেসার্স পোটন ট্রেডার্স। যাদের কাছেও বিসিআইসির পাওনা ৭২ হাজার টন ইউরিয়া সার।তবে এসব ঘটনায় মতিঝিল থানায় শুধু একটি মামলা করেই দায় সেরেছে বিসিআইসি। বিসিআইসির চেয়ারম্যান শাহ মো. ইমদাদুল হক জানান, পুরাতন ডিলারের কাছে প্রায় ৭২ হাজার মেট্রিকটন সার পাওনা আছে। এছাড়া আমাদের কোন কর্মকর্ত্রা এ ধরণের কামকাণ্ডের সঙ্গে জাড়িত নাআএদিকে নবাবের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে করা মামলাটির অগ্রগতি প্রায় শূন্য।
Leave a Reply