বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার শুরু সর্বাত্মক লকডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১
  • ১০৪ বার

আগামীকাল থেকে সীমিত পরিসরে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে সাত দিন সারা দেশে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ ঘোষণা করছে সরকার। সোমবার থেকে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করার কথা থাকলেও তা আগামী ১ জুলাই থেকে সাত দিন ঘোষণা করা হবে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

গতকাল সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে  উচ্চপর্যায়ের এক ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছিলেন, সোমবার থেকে সাত দিন এ কঠোর লকডাউন চলবে। এরপর প্রয়োজন মনে করলে বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করা হবে। এবারের লকডাউনের মধ্যে জরুরি কারণ ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, মানুষ যাতে বিধিনিষেধ মানে, সে জন্য কাজ করবে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী। বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

সংশ্লিষ্ট  সূত্রগুলো বলছে, আগামীকাল থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হলেও অর্থবছরের শেষ সময় হওয়ায় সিদ্ধান্তে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। সোমবার থেকে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে। মার্কেট, হোটেল রেস্তোরাঁসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে লকডাউন শুরু হবে। এ সময়ে কিছু কার্যক্রম চালু থাকবে। আর ১ জুলাই থেকে সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হবে।বাজেটের কাজে সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক শাখা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ কয়েকটি অফিস আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী। লকডাউনের সময়ে জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং গণমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।কঠোর লকডাউনে শিল্পকারখানা খোলা, ব্যাংক চলবে সীমিত পরিসরে : আগামীকাল থেকে বুধবার পর্যন্ত বর্তমান নিয়মে শিল্পকারখানা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। আর বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হলে তখনো শিল্পকারখানা খোলা থাকবে।  আর ওই সময় রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সেবাও চালু থাকবে। তবে ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা কী হবে, তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যাংক খোলা থাকলে শেয়ারবাজারও চালু থাকবে। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পণ্য পরিবহন যথারীতি চলবে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া সর্বাত্মক লকডাউনেও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে পোশাক কারখানাসহ শিল্পকারখানা চালু থাকবে।

লকডাউনের আগাম ঘোষণায় এরই মধ্যে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্পভাবে মানুষজন ঢাকা ছাড়ছেন। অনেকেই ঢাকায় ফিরছেন ব্যক্তিগত পরিবহন বা ছোট পরিবহনে।গতকাল সকালে ঢাকার প্রবেশমুখে মানুষের ঢল নামে। ঘাটে ঘাটে ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বাস বন্ধ থাকায় কয়েক ধাপে ভেঙে ভেঙে কয়েক গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন সাধারণ মানুষ। একইভাবে ঢাকায় ফিরছেন বিকল্প উপায়ে। সকাল থেকেই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে জনস্রোত দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে রাজধানীতে দিনভরই ছিল যানজট। ঢাকার চারপাশে সাত জেলায় লকডাউন থাকলেও যানজট ছিল চোখে পড়ার মতো।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories