সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

নিশ্চিত মৃত্যুর দুয়ার থেকে রক্ষা পাওয়ার পর বাড়ি ফেরার গল্প

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২
  • ১১৫ বার

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২২ আগষ্ট সোমবার ভোর রাত ৫ টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি যাত্রীবাহী বাস সিলেট শহেরর প্রাণ কেন্দ্র থেকে কয়েক কিলোমিটার আগে এবং ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে সুনামগঞ্জগামী বাইপাস মোড়ের প্রায় দুই কিলোমিটার আগে মনু মিয়া কমপ্লেক্স এর সামনে একটি খাদে পড়ে যাওয়া বাসের প্রায় ৪০জন যাত্রী নিশ্চিত মৃত্যু’র মূখ থেকে রক্ষা পেলেন । যার মধ্যে ১৭ সংবাদকর্মীসহ যাত্রীরা সকলেই সম্পূর্ণ সুস্থ ভাবেই বাড়ি ফিরেছেন। তবে বাড়ি ফেরার পথে আতংক কাটেনি ওই সব যাত্রীদের অনেকের। বিভীষিকাময় ওই দূর্ঘটনার দৃশ্য চোখে ভেসে বেড়াচ্ছে গত তিনদিন যাবৎ অনায়াসে প্রায় অনেকের মধ্যে। ঢাকা সিলেট মহাসড়কে সুনামগঞ্জগামী এবং সিলেটের কাছাকাছি একটি স্থানে হঠাৎ চলন্ত যাত্রীবাহী বাসটি অপর একটি যাত্রীবাহী সিএনজি এবং যাত্রীদেরকে রক্ষা করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কমপক্ষে ৩০ ফিট নীচে খাদে পড়ে যায়। ওই বাসটিতে গাজীপুরস্থ টঙ্গী এবং উত্তরায় কর্মরত ১৭ জন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সংবাদকমীরাও ছিলো । মহান সৃষ্টিকর্তার দয়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি । জন্ম মৃত্যু বিয়ে এবং ভাগ্যের একমাত্র মালিক বিধাতা, মানুষ সৃষ্টিকর্তার বিধান পালনকারী একজন উছিলা মাত্র, খুব কাছ থেকে মৃত্য আলিঙ্গন করে বাস যাত্রীরা কিছুটা আতংকিত হলেও মহান সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়ায় আর তার বিধান পালনকারী বাস চালকের আপ্রাণ চেষ্টায় সকলেই প্রানে বেঁচে যান এমনকি কারো কোন প্রকার ক্ষয়ক্ষতি হয়নি একমাত্র বাসটি ছাড়া । তবে বাসটি যে খাদে পড়ে. সেখানে কোন পানি না থাকায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার অপর মহিমা আর চালকের আপ্রান চেষ্টায় যেমন যাত্রী সাধারনের যেমন কিছু হয়নি, তেমনি অবাক হওয়ার বিষয় হলো : মাত্র কিছুদিন আগে সিলেট সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যায় সারাদেশের মানুষ বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসাসেবা দিতে কোন প্রকার কার্পন্যতা করেনি। কারণ অঅমরা সকলেই মানুষ আর মানুষ মানুষের জন্য। অথচ সড়ক দূর্ঘটনায় পতিত যাত্রীবাহী বাসটি যখন খাদে পড়ে তখন প্রাণ রক্ষার্থে যাত্রীদের চিৎকার আর কান্নার আওয়াজে দূর্ঘটনাস্থল ভূ-কম্পিত হলেও পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষগুলোর মন টলেনি বিন্দু মাত্র। ওই এলাকার শতশত নারী পুরুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দূর্ঘনা কবলিত যাত্রীদের কান্নার এবং হাহাকারের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করছিলো এবং দেখছিলো। একটি মানুষও এগিয়ে আসেনি। সিলেটের ওই অঞ্চলের মানুষগুলো বোধ করি কখনো কোন বিপদে পড়েনি বা পড়বে না ! মহান সৃষ্টিকর্তা যখন সহায় হয় তখন ওই অঞ্চলের অহংকারী মানুষগুলোইবা কি করবে ? সত্যি এটাও হয়তো মহান সৃষ্টিকর্তারই মহিমা। নয়তো মানুষ এতোটা নির্দয় হতে পারে ? সর্বপরি ভয়াবহ মহান সৃষ্টিকর্তা ওই সড়ক দূঘর্টনা থেকে সকলেই কোন প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সৃষ্টিকর্তার বিধান পালনকারী ওই চালকের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
আর সিলেটের যে স্থানে ঘটনাটি ঘটেছে ওই অঞ্চলের মানবতাহীন পাষান হৃদয়ের মানুষগুলোকে মহান সৃষ্টিকর্তা যেনো যুগযুগান্তর এই মন-মানষিকতায় বাঁচিয়ে রাখেন সেই প্রার্থনা করছি। সেই সাথে এমন ঘটনার শিকার যাতে কেউ না হয় তার জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করছি।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories