চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের আলাদা আলাদা ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আফগানিস্তানের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।ওয়াশিংটনের বিবৃতির সূত্রে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেন ব্লিনকেন। তবে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা বলা হয়নি।
আফগানিস্তানে থাকা ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও সে দেশে থাকা ভারতীয়দের যথাসম্ভব সরিয়ে নিচ্ছে ভারত। এ ছাড়া গতকাল এক সরকারি বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দ বাগচি বলেন, ‘ভারত সরকার আফগানিস্তানের পরিস্থিতির ওপর ধারাবাহিক ভাবে নজর রেখে চলেছে। আমরা আফগানিস্তানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুনিশ্চিত করতে সব রকম পদক্ষেপ নেব, সেই অনুযায়ী বিভিন্ন নির্দেশিকা জারি করে চলেছি। দ্রুত তাদের ভারতে ফেরানো নিয়ে কথা চলছে। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে তা মেনে নেওয়া হয়েছে। অনেক আফগান নাগরিক রয়েছেন, যাদের সঙ্গে আমাদের উন্নয়নমূলক, শিক্ষাগত সম্পর্ক রয়েছে। তাদের পাশে আমরা দাঁড়াব। সরকার বিমান পরিষেবা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।’ এ ছাড়া সে দেশ থেকে হিন্দু-শিখদের ভারত আশ্রয় দেবে বলেও জানানো হয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়ে সিআরআই জানিয়েছে, আফগানিস্তান-বিষয়ক দোহা বৈঠকে অংশগ্রহণ করায় চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, বর্তমানে আফগানিস্তান পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তালেবানকে চরমপন্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, চীন আফগানিস্তানে একটি সহনশীল সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যুক্তরাষ্ট্র আফগান জনগণের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে চীনের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে আফগান সমস্যার সমাধান জোরদার করা, সে দেশে নতুন গৃহযুদ্ধ ও মানবিক দুর্যোগ এড়ানো এবং দেশটির অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সহনশীল সরকার গঠনে সাহায্য করতে চায়।ওয়াং ই আরও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ। বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে দুদেশের উচিত সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করা। তবে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে চীনকে প্রতিরোধ করছে, চীনের বৈধ স্বার্থ নষ্ট করছে, অন্যদিকে চীনের সহযোগিতা চায়; এটি অকার্যকর পদক্ষেপ। সঠিক উপায় হল- পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহাবস্থানের পথ খুঁজে বের করা।২০ বছর পর আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার সাথে সাথেই সেখানে অস্থিরতা তৈরি হয়। রবিবার পুরোপুরি দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবানরা।
Leave a Reply