মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ইমিগ্রেশন বিভাগের একটি নিয়ন্ত্রণহীন লরির ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এবং তাঁর ২৫ ও ১২ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছেন। গতকাল রাত ১টার দিকে জালান সুলতান ইসমাইলের মাজু জাংশনের ট্রাফিক সিগন্যাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কুয়ালালামপুর ট্রাফিক তদন্ত ও আইন প্রয়োগ বিভাগের প্রধান সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ঈসা জানান, দুর্ঘটনায় ইসুজু ব্ল্যাক মারিয়া মডেলের খালি একটি লরি, দুটি গাড়ি এবং একই পরিবারের চার পথচারী ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ৪৩ বছর বয়সী এক চালক লরিটি চালাচ্ছিলেন। কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন অফিস থেকে চৌকিট এলাকায় যাচ্ছিল লরিটি। ওই এলাকায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযান শেষে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে আসার জন্য লরিটি সেখানে যাচ্ছিল।
তিনি বলেন, লরিটি ট্রাফিক সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় সংশ্লিষ্ট লেনে লাল বাতি জ্বলছিল। তবে লরিটির বীকন লাইট ও সাইরেন চালু ছিল। একই সময়ে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি চালিত প্রোটন সাগা গাড়িটি সবুজ সংকেত পেয়ে ওই মোড় দিয়ে সোজা যাচ্ছিল। লরিটি আসতে দেখে গাড়িটির চালক সময়মতো এড়াতে না পারায় মোড়ের মাঝখানে দুই যানবাহনের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর লরির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সেটি সড়কের পাশে ছিটকে গিয়ে চার পথচারীকে চাপা দেয়। ওই চারজনই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া লরিটি একটি ইনোকম ম্যাট্রিক্স গাড়িকেও ধাক্কা দেয়। ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় সেটি ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিল।
দুর্ঘটনায় পরিবারের তিন সদস্য ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতদের স্ত্রী ও মা ৫৫ বছর বয়সী এক নারীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর মাথা, ডান হাত ও দুই পায়ে আঘাত লাগে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কুয়ালালামপুর হাসপাতালের রেড জোনে ভর্তি করা হয়।
ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামজুরি জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত তিনটি গাড়ির চালকের কেউ আহত হননি। তবে লরির চালক ও প্রোটন সাগার চালককে তদন্তের স্বার্থে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুই চালকের অ্যালকোহল শনাক্তকরণে শ্বাস পরীক্ষা এবং প্রাথমিক মাদক পরীক্ষাও করা হয়েছে। উভয় পরীক্ষার ফল নেতিবাচক এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের শনাক্ত এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৯৮৭ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪১(১) ধারায় মামলা তদন্ত করা হচ্ছে।
Leave a Reply