বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই : অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই টাস্কফোর্সের প্রস্তাব ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদে‌শির মৃত্যু : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দরজা খুলতেই ধোঁয়া, জানলা দিয়ে কার্নিশে বাংলাদেশি দম্পতি; মোবাইলের আলোয় মিলল উদ্ধার নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডে ৯ মৃত্যু, একই ভবনে একাধিক হোটেল ঘিরে উঠছে প্রশ্ন কলকাতার নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুন: নিহত ৯; প্রাণে বাঁচলেন তিন বাংলাদেশি ইরানের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল আমিরাত মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের লরির ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন নিহত কলকাতার হোটেলে বিস্ফোরণে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই টাস্কফোর্সের প্রস্তাব ভারতীয় ব্যবসায়ীদের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবকাঠামো ও উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে দুটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বি-টু-বি) টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক মিশনের চেয়ারম্যান বিনায়ক চ্যাটার্জি।
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতমুখী একটি রূপরেখার অংশ হিসেবে এই দুটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রস্তাবিত প্রথম টাস্কফোর্সটি অবকাঠামো ও বেসরকারি মূলধন নিয়ে কাজ করবে। এর লক্ষ্য হবে অবকাঠামো উন্নয়নে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি বিনিয়োগ কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা।
বিনায়ক চ্যাটার্জি বলেন, বর্তমানে ভারতের অবকাঠামো খাতে প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে, যা দেশটির মোট ২৫ লাখ কোটি টাকার অবকাঠামো ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ।
তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্যও কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে দেশীয় করপোরেট সঞ্চয়, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং সার্বভৌম সম্পদ তহবিলকে অবকাঠামো প্রকল্পে আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে এ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশও সেতু, রেলপথ, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মেট্রোরেলের মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যেখান থেকে ভারতও শিক্ষা নিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ঢাকা এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থানে দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক বৈঠকের আয়োজন করা হবে। এসব বৈঠকের মাধ্যমে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
উদীয়মান খাত বা ‘সানরাইজ সেক্টর’ নিয়ে কাজ করবে দ্বিতীয় টাস্কফোর্স। এ টাস্কফোর্সের লক্ষ্য হবে বস্ত্র, সিমেন্ট ও সারের মতো প্রচলিত শিল্পের বাইরে প্রযুক্তি নির্ভর নতুন খাতগুলোতে সহযোগিতার সুযোগ খুঁজে বের করা।
বিনায়ক চ্যাটার্জি পারমাণবিক বিদ্যুৎ, সেমিকন্ডাক্টর, সবুজ হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তি, উচ্চগতির রেল, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সৌর সেল ও মডিউল উৎপাদনকে সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তিনি জীবপ্রযুক্তি খাতকেও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ভারত বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। ফলে এ খাতে জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুটি টাস্কফোর্সই পুরোপুরি ব্যবসায়িক পর্যায়ে পরিচালিত হবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখাই হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিনায়ক চ্যাটার্জি বলেন, প্রথম টাস্কফোর্সের উদ্দেশ্য হবে অবকাঠামো উন্নয়নে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি মূলধন আকৃষ্ট করা। অন্যদিকে দ্বিতীয় টাস্কফোর্স প্রযুক্তিগত জটিলতা মোকাবিলা এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories