সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। আজ মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগপত্র পাঠাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমের বরাত দিয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, স্যার, আজ পদত্যাগ করবেন। তিনি শারীরিক অসুস্থতার জন্য পদত্যাগ করছেন বলে জানিয়েছেন।
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এখনো তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেননি। মঙ্গলবার অপরাহ্নে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠাবেন।
এস এম মতিউর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান স্যার আজ আমাকে ডেকে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আজ অপরাহ্নে এ সংক্রান্ত চিঠি জনপ্রশাসনে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন বলেও জানিয়েছেন। তবে আমার জানামতে এখনো মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়নি।
পিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগের কারণ প্রসঙ্গে জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান স্যার আমাকে জানিয়েছেন তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। এমন অবস্থায় দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর বেশি আমি জানি না।
এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিএসসির এক সদস্য জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলেও তাকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটেনি। তবে, সম্প্রতি তাকে এ পদ থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন পিএসসির পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন চেয়ে একটি চিঠি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছিল। এটিকেও বর্তমান সরকার ইতিবাচক ভাবে দেখছে না। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে একটি নেতিবাচক মনোভাব ছিল।
আজ চেয়ারম্যানের পথ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তের পেছনে সেটিও বড় কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করেন পিএসসির এই সদস্য।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর তৎকালীন পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ পিএসসির ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
Leave a Reply