দিল্লির ক্রাইম হোক বা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রেক্ষাপটে তৈরি ‘অ্যাক্সোন’ অথবা শাহরুখ খানের ‘ফ্যান’— নিজের অনবদ্য অভিনয় দক্ষতায় ওটিটি এবং বড়পর্দা কাঁপিয়ে বেড়ানো বলি অভিনেত্রী সায়নী গুপ্ত এবার একেবারে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। আর পেছনের সারিতে নয়, একেবারে মার্কিন মূলধারার ছবিতে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন এই বহুমুখী অভিনেত্রী। এবং মুখ্যচরিত্রে। আর এই খবরটি সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে সিনেপ্রেমীরা!
বর্তমানে মিনেসোটার ডুলুথ শহরে পুরোদমে চলছে এই নতুন ছবির ক্যামেরা-লাইট-অ্যাকশনের কাজ। ছবির নাম ‘আর্যা’। ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে আর্য সিনহা নামের এক চরিত্রকে কেন্দ্র করে, যাঁর জুতোয় পা গলাচ্ছেন সায়নী।
ছবিতে কলকাতার বা দেশের এক নামী সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ পিয়ানো শিক্ষিকা আর্যা। কিন্তু কেরিয়ারের চাকা সচল রাখতে এবং উচ্চাশা পূরণে খানিক অনিচ্ছা সত্ত্বেও সুদূর উত্তর মিনেসোটার এক কঠিন অ্যাসাইনমেন্টে যোগ দিতে বাধ্য হয় । উদ্দেশ্য—একটি মৃতপ্রায় স্কুল ব্যান্ডকে নতুন জীবন দেওয়া।কিন্তু পশ্চিমের এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ আর ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় আর্যাকে। এরপর শুরু হয় আসল লড়াই। একরোখা এবং কড়া স্বভাবের আর্যাকে একে একে ভাঙতে হয় নিজেরই গড়া কঠোর দেয়াল। নিজের সুপ্ত ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সফলতার এক সম্পূর্ণ নতুন সংজ্ঞা খুঁজে পায় সে। আর এই পুরো জার্নিটাই হল ছবির আসল চমক।
নেটফ্লিক্স ও ইলিউমিনেশনের মতো জায়ান্ট সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজি রোল সামলানোর পর, এই ছবির মাধ্যমেই ফিচার ফিল্মে পরিচালক হিসেবে ডেবিউ করছেন নীল টুলি। ওঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘আমেরিকান হাতি’ এবং ‘আড্ডা জি প্রোডাকশন’-এর পল্লবী ও কীর্তনা শাস্ত্রী (যাঁরা এর আগে ‘ল্যান্ড অব গোল্ড’-এর মতো ছবি উপহার দিয়েছেন) যৌথভাবে ছবিটি প্রযোজনা করছেন। অন্যদিকে, শুধু অভিনয়ই নয়, এই ছবির এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসারের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সায়নী। এর আগে তিনি ‘আসমানি’ নামের একটি নিজের লেখা শর্ট ফিল্মের পরিচালনা ও প্রযোজনার দায়িত্ব একা হাতে সামলেছিলেন।
এইমুহূর্তে ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত সায়নী। রয়েছেন দেশের বাইরে। সেখান থেকেই আজকাল ডট ইন-কে এই ছবি প্রসঙ্গে সায়নী বললেন, “দেখুন, এই ছবি নিয়ে এইমুহূর্তে খুব বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে হ্যাঁ, এরকম সুযোগ আমি অনেকদিন ধরেই খুঁজছিলাম। ছবির চিত্রনাট্য যেমন দুরন্ত তেমনই আমার চরিত্রটি। নির্মাতারা যে ‘আর্যা’কে আমার মধ্যে দেখেছেন, তা আমার সৌভাগ্য! আর এই ছবি, এই চরিত্রটি যে সারাজীবনের মতো আমার হৃদয়ে গেঁথে তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
Leave a Reply