সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত মানব পাচার সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডে জনমনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়া এই চক্রের অপতৎপরতায় সীমান্ত এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে। স্থানীয়দের দাবি, এই সিন্ডিকেট কেবল আইনি অপরাধই করছে না, বরং সীমান্তবর্তী জনপদকে এক প্রকার জিম্মি করে ফেলেছে।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত জুড়ে মানব পাচারের এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে একটি চক্র। তাদের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সাব্বির আহমদ ও কাউসার আহমদ সহ তাদের নেতৃত্বে চক্রটি সক্রিয় সিন্ডিকেট এই অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে সাব্বির (২৯) স্থায়ী ঠিকানা সুনামগঞ্জ, বর্তমান ঠিকানা: মামার দোকান এলাকা। লাল মিয়া (৩০) পিতা: আমিন আলী, গ্রাম দক্ষিণ প্রান্তমাই। জুয়েল রানা (৩০)পিতা শাহজাহান, গ্রাম: উত্তর প্রতাপপুর। কাউসার (২৮) ও আফসার (২৬)উভয় পিতা: জয়নুদ্দিন, গ্রাম উত্তর প্রতাপপুর।
এনাম আহমদ (২৮)পিতা: আব্দুল মালেক, গ্রাম: ডিবির হাওর। ইউসুফ আহমদ (২৬) পিতা: নেনা মিয়া, গ্রাম: ডিবির হাওর। জুবেল আহমদ (২৫) (পিতার নাম অজ্ঞাত) গ্রাম: ডিবির হাওর ।
অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি মূলত গোয়াইনঘাটের পানতুমাই, বাদেশ্বর, হাজিপুর, লামাপুঞ্জি, লন্ডনী বাজার, সংগ্রামপুঞ্জি, তামাবিল, নলঝুরি এবং জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর সীমান্ত এলাকাকে তাদের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে এবং অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে অপহরণ ও জিম্মি করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
অপরাধীদের ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না, যার ফলে এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো সীমান্ত অঞ্চলে।প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর কঠোর বার্তা
মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে স্থানীয় সচেতন মহল এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তারা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জোর আহ্বান জানিয়েছেন: পাশাপাশি
গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে এই চক্রের গোপন আস্তানাগুলো শনাক্ত করা এবং সাঁড়াশি অভিযান চিহ্নিত হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা ও সীমান্ত পারাপারের অবৈধ রুটগুলো সিলগালা করা এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা
দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, আমরা আর আতঙ্কিত জীবন চাই না। এই মানব পাচারকারীরা দেশ ও জাতির শত্রু। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রশাসন যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই সিন্ডিকেট আরও বড় কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাব্বির আহমদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে, উনার বন্ধু কল রিসিভ করেন বলেন সাব্বির এখানে নাই, কাউসার আহমেদের মুঠোফোন কল দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আগে মানব পাচার করতাম এখন করি না, এবং এনামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন এরকম বিষয় নিয়ে আমাকে কল দিবেন না আমরা কোনরকম চলতেছি, ইউসুফের মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেন কথা শুনেই উত্তর না দিয়ে কল কেটে দেন, লাল মিয়ার মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি, এবং অন্যান্যরাও কল রিসিভ করেননি,
সিলেটের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা সীমান্তবর্তী জনগণের। এই প্রতিবেদনটি কি আপনার বর্তমান প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ হয়েছে, নাকি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা সংবাদের মোড় আরও পরিবর্তন করতে চান?
Leave a Reply