২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ। একই গ্রুপে স্পেন ও পর্তুগাল। ইউরোপের দুই হেভিওয়েটের ম্যাচ ঘিরে আকাশ ছুঁয়েছিল উন্মাদনা। সেদিন দুরন্ত হ্যাটট্রিকে পিকে-র্যামোসদের স্প্যানিশ দুর্গ কাঁপিয়ে দেয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যাচ ড্র হলেও পর্তুগিজ তারকার মুখে দেখেছিলাম বিজয়ীর হাসি।
আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে যা আজও তার অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ আট বছর। আরও এক বিশ্বকাপে মুখোমুখি স্পেন-পর্তুগাল। সোমবার ডালাস স্টেডিয়ামে থামবে একটি দলের অভিযান। অপর দল বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে আরও একধাপ এগবে। আমার চোখে এবারের টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ লড়াই।
একদিকে ৪১ বছরের রোনালদোর নাছোড়বান্দা মানসিকতা। উলটোদিকে স্পেনের শৈল্পিক ফুটবল। অবশ্যই এই ম্যাচে নজর থাকবে রোনাল্ডো-ইয়ামাল দ্বৈরথের দিকে। ক্লাব ফুটবলে একটা সময় মেসি ও রোনাল্ডোর মধ্যে যে লড়াইটা আমরা দিনের পর দিন উপভোগ করে এসেছি, সোমবারও তেমনই কিছু দেখার আশায় থাকব।
এটাই সম্ভবত রোনাল্ডোর কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। আর তার বিপরীতে থাকা ইয়ামালের প্রথম। ক্লাস ও টেম্পারমেন্টের নিরিখে দু’জনের মধ্যে তুলনা করাটা বোকামি। তবে মনে রাখতে হবে, বর্তমানে স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম মুখ এই তরুণ উইঙ্গার।
বার্সেলোনার জার্সিতে গত দুই মরশুমে একের পর এক রেকর্ড গড়েছে। তাই ওকে সামনে রেখেই দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বুঁদ লা রোহা ব্রিগেড। অবশ্য শুধুমাত্র ইয়ামাল নয়, ড্যানি ওলমো, মিকেল ওয়ারজাবাল, পেড্রিরাও সমান গুরুত্ব রাখে এই দলে।
তিকিতাকা ফুটবল এদের ডিএনএ’তে। আমার মতে, বিশ্বকাপে এখনও নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে পারেনি লুই ডে লা ফুয়েন্তের ছেলেরা। হতে পারে, পর্তুগাল ম্যাচের জন্য সেটা তুলে রেখেছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে গোল হজম করেনি তারা। আমি নিশ্চিত, পর্তুগিজদের বিরুদ্ধেও সেই ছন্দ বজায় রাখতে চাইবে কুবার্সিরা।
পক্ষান্তরে, পর্তুগালের সবকিছুই রোনাল্ডো কেন্দ্রিক। এবারের টুর্নামেন্টে তার নামের পাশে আপাতত তিন গোল। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া লক্ষ্যভেদের পর গত ম্যাচে পেনাল্টি থেকে জাল কাঁপায় সিআরসেভেন। সেই সুবাদে বিশ্বকাপের আসরে প্রথম নক-আউটে গোলের দেখা পায় পর্তুগিজ মহাতারকা। কোচ রবার্তো মার্তিনেজেও তার উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তার একটা নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছে দলে।
তাল কাটছে দলীয় সংহতিতে। গ্রুপ পর্বে সিনিয়রদের মধ্যে ইগোর লড়াই কারও নজর এড়ায়নি। তবে দল নক-আউটে পৌঁছাতেই ঐক্যের বার্তা দেয় রোনাল্ডো। তবে স্রেফ মুখে নয়, স্পেনের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষায় মাঠেও তা পালন করতে হবে ব্রুনো ফার্নান্ডেজ-ভিতিনহাদের।
পরিসংখ্যান বলছে, অতীতে দু’দলের মুখোমুখি সাক্ষাতে ৪১ বারের মধ্যে পর্তুগাল জিতেছে মাত্র ছ’বার। গত বছর নেশনস লিগ ফাইনাল গড়িয়েছিল টাই-ব্রেকারে। শেষ হাসি হেসেছিল পর্তুগাল। তবে বিশ্বকাপের আসরে স্ট্যাট খুব একটা গুরুত্ব রাখে না। তার উপর দলে রোনাল্ডোর মতো ফুটবলার থাকলে, যে কোনো চ্যালেঞ্জই অতিক্রম করার স্পর্ধা দেখানো সম্ভব।
একজন স্প্যানিয়ার্ড হিসেবে সবসময় মন চাইছে দেশের জয়। তবে বিশ্বকাপের উন্মাদনা বাঁচিয়ে রাখতে রোনালদোর টিকে থাকাটাও জরুরি। ফলে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
Leave a Reply