প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে চারা ও সার বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির অধীনে উপজেলার ৪২৫ জন কৃষক ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে মোট ২১২৫টি ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে এসে বিতর্কের মুখে পড়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি গাছের চারা সোজা রাখার জন্য আস্ত বাঁশের খুঁটি এবং নির্ধারিত জৈব সার দেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রতিটি খুঁটির জন্য ৫০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আস্ত বাঁশের পরিবর্তে নিম্নমানের ফাঁটানো বাঁশ বা বাঁশের বাতা ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কিছু কিছু স্থানে চারার সাথে কোনো খুঁটিই দেওয়া হয়নি। ৫টি চারা গাছের সাথে ব্যবহারের জন্য ১২০ টাকা মূল্যের জৈব সার বরাদ্দ ছিল। তবে অনেক উপকারভোগী অভিযোগ করেছেন যে, তারা নির্ধারিত এই জৈব সারও পাননি। প্রকল্পের এই অনিয়মের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। এমনকি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরালও হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়- উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন অত্যন্ত নিম্নমানের ও দুর্বল চারা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরেই গাছগুলো ফেলে দেন। মাঝিড়া ইউনিয়নের এক কৃষক জানান, তিনি ৪টি গাছ পেয়েছেন। তবে গাছগুলো অতি নিম্নমানের এবং গাছের সাথে কোনো বাঁশের খুঁটি কিংবা জৈব সার পাননি। এতে তিনি অনেকটাই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এবিষয়ে বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেল মুহাম্মাদ শামসসুদ্দীন ফিরোজ জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫টি চারার বিপরীতে ৩০ কেজি করে জৈব সার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জনপ্রতি ৪ টাকা কেজি দরে ১২০ টাকার সার দেওয়া হচ্ছে, তবে বর্তমান বাজারে এই মূল্যে ভালো মানের জৈব সার জোগাড় করা দুষ্কর। বাঁশের দাম বেশি হলেও আমি চিকন তল্লা বাঁশের পুরো খুঁটি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর এ প্রকল্পে কোনো ধরনের ব্যত্যয়ের সুযোগ নেই। কোথাও গাফিলতি প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবিষয়ে জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমেনা খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে প্রশ্ন শুনেই কল কেটে দেন। পরে নিজেই ফোন করে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পরে জানাবেন। এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাইফুর রহমান জানান, কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply