গত এক মাসে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি আরব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে অন্তত ৫ হাজার ৪৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি তথ্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এই ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে তেহরান। উপাত্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ৪১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এক হাজার ৯১৪টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
এছাড়া কুয়েত ৩০৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬১৬টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। বাহরাইন ১৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৯১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে, কাতার ২০৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯৩টি ড্রোন হামলা, জর্ডানে মোট ২৬২টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় সৌদি আরবে অন্তত ৫২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও এক হাজার ৬টি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওমানে ১৯টি ড্রোন হামলা চালানো হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে এক বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে। এতে শুধু প্রাণহানি নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বিমান চলাচলেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
Leave a Reply