রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

হামের উপসর্গ নিয়ে গোপালগঞ্জে শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে স্থানীয়রা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ২৪ বার

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তুবা ইসলাম তোহা নামের ১০ মাসের ওই শিশু হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের তৃতীয় সন্তান। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গোপালগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে। তারা তোহার চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট ও উপসর্গ নিয়ে কেস স্ট্রাডি তৈরি করছেন।
জানা গেছে, টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা তুহিন শেখের শিশুকন্যা গত ২৭ মার্চ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান, গত ১৯ মার্চ হঠাৎ তুবার জ্বর দেখা দেয়। এর পরের দিন ২০ মার্চ জ্বরের সঙ্গে হালকা শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তাকে মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। কিন্তু কোন পরিবর্তন না হওয়ায় দিনমজুর বাবা তুহিন শেখ ২৪ মার্চ স্থানীয় সেবা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. কামাল হোসেনের কাছে নিয়ে যান। তিনিও বিভিন্ন প্রকার ওষুধ লেখে ব্যবস্থাপত্র দেন। কিন্তু তাতেও কোন ফল আসেনি। বরং শিশুটির জ্বর, শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে সারা শরীরের হাম দেখা দেয়। গত ২৬ মার্চ সকালে প্রচন্ড অসুস্থ অবস্থায় আবার মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের নিয়ে আসলে শিশুটির অবস্থা খারাপ দেখে তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
পরবর্তীতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেন এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে রেফার করেন। সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়।
এদিকে, শিশুটির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে জন্মের পর নিয়ম অনুযায়ী টিকা দেয়া হয়েছিল। তবে ২৫ মার্চ হামের টিকা দেয়ার দিন সে অসুস্থ থাকায় টিকা দেয়া সম্ভব হয়নি।
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন জানান, শিশুটিকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে কেস স্টাডি করা হচ্ছে। গত তিন বছরে এ এলাকায় হামের কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories