মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীতে অপহরণ করে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি, ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে প্রাণে রক্ষা টঙ্গীতে বাবা-ছেলে খুন.বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য টঙ্গীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শাহবাগে হামলার ঘটনায় ঢাবি প্রশাসনের কাছে ডাকসুর ৬ দাবি যদি নিজের দেশ নিয়ে বেশি অহংকার থাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শত্রুপক্ষ দাঁড়িয়ে যাবে: রিজভী হরমুজ নিয়ে ইরানের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প ইরানের নতুন প্রস্তাব: হরমুজ খুললে বা না খুললে— তেলের বাজারে কী হতে পারে? ৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন শেলটেক আছে এগলাল’স এবিসি চ্যারিটি স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে

ডায়েট করেও কমছে না ওজন? কারণ ও সমাধান জানালেন পুষ্টিবিদ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার
ডায়েট করেও কমছে না ওজন? কারণ ও সমাধান জানালেন পুষ্টিবিদ

বর্তমান সময় ওজন বৃদ্ধি একটি সাধারণ কিন্তু জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ওজন কমানো এখন অনেকের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত ডায়েট ও ব্যায়াম করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার অভিযোগ আসে প্রায়ই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল পদ্ধতি অনুসরণ এবং অপুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসই এর অন্যতম প্রধান কারণ।
পুষ্টিবিদদের মতে, অনেকেই ওজন কমানোর জন্য হঠাৎ করে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেন বা নির্দিষ্ট খাদ্যগোষ্ঠী পুরোপুরি বাদ দেন। যা শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়ায় (metabolism) নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে ডায়েট করে স্বাস্থ্য না কমার কারণ ও সমাধানের ব্যাপারে কথা বলেছেন পুষ্টিবিদ খাদিজা আক্তার। তার পরামর্শ জেনে নেয়া যাক-
ওজন কমানোর মূল নীতি:
ওজন কমানোর মূল ভিত্তি হলো ক্যালোরি ব্যালান্স। অর্থাৎ, দৈনিক যত ক্যালোরি গ্রহণ করা হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ক্যালোরি খরচ করতে হবে। তবে শুধু কম খাওয়াই সমাধান নয়; সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
পুষ্টিবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওজন না কমার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো-
১. অতিরিক্ত ক্যালোরি রেস্ট্রিকশন: খুব কম খেলে শরীর শক্তি সঞ্চয়ের মোডে চলে যায়, ফলে ক্যালোরি বার্ন কমে যায়।
২. সম্পূর্ণ কার্বোহাইড্রেট বাদ দেয়া: কার্বোহাইড্রেট শরীরের প্রধান শক্তির উৎস। এটি পুরোপুরি বাদ দিলে দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং দীর্ঘমেয়াদে হরমোনাল সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩. অনিয়মিত খাবারের সময়: দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর একসঙ্গে বেশি খাওয়া ওজন নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে।
৪. শুধু ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করা: ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যাভ্যাস ঠিক না থাকলে শুধু ব্যায়াম করে ওজন কমানো কঠিন।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান না করা: পানি কম খেলে মেটাবলিজম কমে যেতে পারে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
৬. প্রোটিনের অভাব: এতে ক্ষুধা বেশি লাগে এবং পেশি ক্ষয় হয়।
৭. লুকানো ক্যালোরি: চা, জুস, সস বা স্ন্যাকসে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়।
পুষ্টিবিদের মতামত:
পুষ্টিবিদ খাদিজা আক্তার বলেন, ওজন কমানোর জন্য শুধু কম খাওয়া যথেষ্ট নয়। সঠিক অনুপাতে সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই দ্রুত ফল পেতে গিয়ে ক্র্যাশ ডায়েট করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখা হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ওজন কমানো সহজ হয়।
কার্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়:
১. সুষম খাদ্য গ্রহণ: প্রতিদিনের খাবারে শর্করা, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেল—সবই সঠিক অনুপাতে থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
২. নিয়মিত ও পরিমিত খাবার: দিনে ৩টি প্রধান খাবার ও ১–২টি হালকা স্ন্যাকস রাখা যেতে পারে, যাতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।
৩. প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো: ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার কমিয়ে প্রাকৃতিক ও ঘরে তৈরি খাবার বেশি খাওয়া উচিত।
৪. নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ: প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম ওজন কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৫. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: ঘুমের অভাব এবং অতিরিক্ত স্ট্রেস হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
মিথ বনাম বাস্তবতা:
১. না খেলে দ্রুত ওজন কমে: এটি ভুল ধারণা। এতে শরীর দুর্বল হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন আরও বাড়তে পারে।
২. ভাত খেলেই মোটা হওয়া যায়: পরিমিত পরিমাণে ভাত খেলে সমস্যা নেই। আসল বিষয় হলো মোট ক্যালোরি গ্রহণ।
৩. ক্র্যাশ ডায়েটই দ্রুত সমাধান: এটি সাময়িক ফল দেয়, কিন্তু স্থায়ী নয় এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
৪. শুধু জিম করলেই ওজন কমবে: সঠিক খাদ্যাভ্যাস ছাড়া সম্ভব নয়।
৫. কার্বোহাইড্রেট বাদ দিলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়: দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই নয়।
সতর্কবার্তা:
এ পুষ্টিবিদ সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অপ্রমাণিত ডায়েট বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এতে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি, দুর্বলতা এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পুষ্টিবিদের পরামর্শ:
ওজন কমানো কোনো স্বল্পমেয়াদি প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি ধারাবাহিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সমন্বয়ই স্থায়ীভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণের একমাত্র কার্যকর উপায়। দ্রুত ফলের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি না নিয়ে ধীরে, কিন্তু স্থিতিশীলভাবে এগোনাই সবচেয়ে নিরাপদ এবং ফলপ্রসূ।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories