বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক কূটনৈতিক অভ্যর্থনার আয়োজন করেছে। শহরের একটি স্থানীয় হোটেলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুয়েন মান কুওং।
অনুষ্ঠানে হ্যানয়ে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ শতাধিক অতিথি অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, লক্ষ লক্ষ বীর শহিদ, সম্ভ্রম হারানো অসংখ্য মা-বোন এবং সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান, যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
স্বাগত বক্তব্যে ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, লক্ষ লক্ষ বীর শহিদ, সম্ভ্রম হারানো অসংখ্য মা-বোন এবং সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং অদূর ভবিষ্যতে দেশকে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ভিয়েতনামের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতামূলক সম্পর্কের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুয়েন মান কুওং স্বাধীনতার গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের অর্জনের জন্য দেশটির জনগণ ও সরকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আজ বিশ্বের অনেক দেশের জন্য অনুকরণীয়। বিশ্ববাজারে পোশাক শিল্পে নেতৃত্ব, অন্যতম ঔষধ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে অবস্থান এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে শিগগিরই দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দিবসটি উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের সমন্বয়ে নৈশভোজ পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিযোগ্য পণ্যসমূহ নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
Leave a Reply