রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের পাশে থেকেছেন তারেক রহমান: রিজভী জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ হত্যায় যুবক গ্রেপ্তার টুপটুপ রিসোর্ট অগ্নিকাণ্ড : মালিক তানভীরকে প্রধান আসামি করে মামলা মালয়েশিয়ায় ২৮৭ দিনে আটক বাংলাদেশিসহ ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি সৌদিতে নজরদারি চালানোর সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ভারতে মন্দিরের কাছে ট্রাকচাপায় ১২ ভক্ত নিহত জাককানইবিতে আড়াই মাসে তিন সংঘর্ষ, মাথা ফেটেছে ৬ শিক্ষার্থীর দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে অবদান রাখছে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৩ বার

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাদের টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত অবদান রাখছেন তারা। এ তথ্য জানিয়েছেন এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেসের (ইএমজিএস) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নোভি তাজউদ্দিন।
তিনি বলেন, ইএমজিএসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত ব্যয় করেন। বর্তমানে দেশটিতে ১ লাখ ৬৭ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী থাকায় তাদের সম্মিলিত ব্যয়ের প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত।

রোববার (২৩ আগস্ট) তেরেংগানুর পানতাই তেলুক কেতাপাংয়ে আয়োজিত ‘মালয়েশিয়ান কালচারাল ডিসকভারি কমিউনিটি ইমারশন’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব তথ্য জানান নোভি তাজউদ্দিন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যই অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনছেন না, তাদের উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতিশীল করছে। বিশেষ করে খাবার, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবা খাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নোভি তাজউদ্দিন উদাহরণ দিয়ে বলেন, তেরেংগানুর ইউনিভার্সিটি সুলতান জাইনাল আবিদিন (ইউনিসজা) ও ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেংগানু (ইউএমটি)-এর মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পায়।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১৪টি আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা গন্তব্যের একটি হিসেবে স্বীকৃত। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে মালয়েশিয়া ক্রমেই আকর্ষণীয় শিক্ষা গন্তব্য হয়ে উঠছে।
নোভি তাজউদ্দিন বলেন, আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে সাধারণত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো চারটি দেশ থাকত। এখন সেই তালিকায় মালয়েশিয়াও স্থান করে নিয়েছে। এটি প্রমাণ করে, বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা খাতে মালয়েশিয়া এখন একটি প্রতিযোগী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত তিন বছরে মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে। এতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে মালয়েশিয়া ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ১০ বছর মেয়াদি ‘মালয়েশিয়া হায়ার এডুকেশন ব্লুপ্রিন্ট’-এ এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নোভি তাজউদ্দিন বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১ লাখ ৬৭ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার প্রচার চালানো হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে বিশ্বের প্রায় সাত থেকে আটটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে শীর্ষ পাঁচটি দেশ হলো চীন, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।
নোভি তাজউদ্দিন জানান, মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের হিসাব মিলিয়েই বর্তমানে দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories