বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের অবসান হলো। সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে ঘুমের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন টালিউডের প্রবীণ অভিনেতা তমাল রায় চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র, নাটক ও মঞ্চ-তিন মাধ্যমের দাপুটে অভিনেতা ছিলেন।
একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যা ছাড়াও তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। হৃদযন্ত্রে বসানো হয়েছিল পেসমেকার। অসুস্থতার কারণেই মাঝে দীর্ঘদিন তাকে পর্দায় দেখা যায়নি।
কলকাতার আর্টিস্ট ফোরামের অন্যতম সম্পাদক দেবদূত ঘোষ ভারতীয় একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, সোমবার রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ঘুমের মধ্যেই চলে যান এ অভিনেতা। তার বয়স হয়েছিল আশির কিছুটা ওপরে।
দেবদূত আরও বলেন, ‘গৃহপরিচারিকা এসে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে খবর দেন। তিনি এসে জানান, ঘুমের মধ্যেই চলে গিয়েছেন তমালদা।একসময় সিনেমা, টিভি নাটক কিংবা মঞ্চনাটকেও দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তমাল রায় চৌধুরী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাকে ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘লে হালুয়া লে’, ‘বিন্দাস’, ‘জাতিস্মর’, ‘গোরস্থানে সাবধান’, ‘আমাজন অভিযান’, ‘চাঁদের পাহাড়’ প্রভৃতি জনপ্রিয় ছবিতে দেখা গেছে। অভিনয় করেছেন ইংরেজি ভাষার ‘দ্য নেমসেক’ ও ‘সিটি অব জয়’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রেও।
বেশকিছু মঞ্চনাটকের নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন এই অভিনেতা। নেতিবাচক চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছিল, প্রশংসা পেয়েছেন ইতিবাচক চরিত্রেও। শেষবার তাকে তথাগত মুখোপাধ্যায়ের ‘ভটভটি’ ছবিতে দেখা গেছে।
তমাল রায় চৌধুরীর মৃত্যুর খবরে পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা ও থিয়েটার অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ বিকেল ৪টায় তার মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। সেখানে সহকর্মী, বন্ধু ও অনুরাগীরা প্রিয় অভিনেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকবেন।
Leave a Reply