ভিজিট ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। এমনকি ভিক্ষুকের ঘরে মিলছে বিলাসবহুল গাড়ি এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিক্ষাবৃত্তিবিরোধী এক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপরই উঠে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জানা যায়, দুবাই ও শারজাহ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সম্প্রতি অভিযান পরিচালনা করে শতাধিক পেশাদার ভিক্ষুককে আইনের আওতায় এনেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অধিকাংশ সদস্যই ভিজিট ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করে মানুষের ধর্মীয় ও মানবিক অনুভূতিকে পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল।
অভিযানে এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যা সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে, এক ভিক্ষুকের সন্ধান মিলেছে যার একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি ও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। মূলত অসুস্থতা বা চরম অভাবের নিপুণ অভিনয় করে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পুঁজি করাই ছিল এই ব্যক্তির মূল কৌশল।
কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, আমিরাতে ভিক্ষাবৃত্তি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এই অপরাধে ধরা পড়লে কমপক্ষে পাঁচ হাজার দিরহাম জরিমানা ও তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এমনকি যারা সংগঠিতভাবে এই চক্র পরিচালনা করবে তাদের জন্য এক লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানার কঠোর আইন বলবৎ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পবিত্র রমজান মাসে আমিরাতে ভিক্ষাবৃত্তির প্রবণতা বেশি থাকায় প্রতি বছর এমন অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
একই সঙ্গে, দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনসাধারণকে সরাসরি কাউকে অর্থ প্রদান না করে সরকার অনুমোদিত ও নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে দান করার জোরালো পরামর্শ দিয়েছে। সেই সঙ্গে সড়কে বা অনলাইনে কোনো সন্দেহভাজন ভিক্ষুক দেখলে তাৎক্ষণিক পুলিশের নির্দিষ্ট অ্যাপ বা হেল্পলাইন নম্বরে কল করে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
Leave a Reply