জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি)-এর সাবেক শিক্ষার্থী এস. এম. তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক আটক রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার সকল সনদপত্র সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে বীর প্রতীক তারামন বিবি হল থেকে হুমকি দিয়ে পার্শ্ববর্তী ইসলামনগরে ভাড়া বাসায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নিয়ে গিয়ে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তারকে সভাপতি করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরীফুল হুদা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরীন সুলতানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি) লুৎফর রহমান আরিফ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর প্রক্টরের কাছে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে জরুরি প্রশাসনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত এস. এম. তারিকুল ইসলামের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরসহ সকল সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়টি রাষ্ট্রীয় আইনে দায়ের করা মামলার মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার হবে, এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
Leave a Reply