জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আহ্বানে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে দেশটিতে। তাকাইচির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাসের মাথায় নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার প্রেক্ষিতে রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিভিন্ন জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাপানিজ ইনোভেশন পার্টির জোট বড় ব্যবধানে জয় পেতে পারে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, জোটটি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ৪৬৫ আসনের মধ্যে প্রায় ৩০০ আসন পেতে পারে। এতে গত বছর সংসদের নিয়ন্ত্রণ হারানো এলডিপির জন্য শক্ত অবস্থানে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কর ছাড় ও ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকাইচি ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন আদায় করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এসব ব্যয়নির্ভর নীতি জাপানের ধীরগতির অর্থনীতিতে চাপ বাড়াতে পারে। এবারের নির্বাচনে অগ্রিম ভোট আগের তুলনায় কম হয়েছে, যার পেছনে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ভারী তুষারপাতকে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই এলডিপির জন্য বড় শক্তি। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার বেশ সমর্থন রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বেশ প্রভাবশালী। তবে, এই আগাম নির্বাচন তাকাইচির জন্য একধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, এবার তার দলকে তুলনামূলক বেশি ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এছাড়া পররাষ্ট্রনীতিতে চীন ও তাইওয়ান ইস্যুতে তাকাইচির কড়া অবস্থান বিতর্ক তৈরি করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তার উদ্যোগ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নির্বাচনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এসকল বিষয় নির্বাচনে কেমন প্রভাব ফেলবে তা বোঝা যাবে ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর।
Leave a Reply