নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় ইসরায়েলে নতুন বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। একটি মামলার নথি থেকে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ফিলিস্তিনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজের বরাতে বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তের কাছে অবস্থিত কিবুৎজ হানিতা কর্তৃপক্ষ চীনা নিয়ন্ত্রিত তহবিল ব্যালে ভিশনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ব্যালে ভিশন বর্তমানে হানিতা লেন্সেস নামের একটি ইনট্রাওকুলার লেন্স উৎপাদনকারী কারখানার ৮০ শতাংশ মালিকানা নিয়ন্ত্রণ করে। মামলায় কিবুৎজ হানিতা প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। অভিযোগে বলা হয়, পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী বাকি শেয়ার কেনার যে অপশন ছিল, ব্যালে ভিশন তা কার্যকর করেনি।
মামলার সঙ্গে সংযুক্ত ব্যালে ভিশনের জবাব দেয়া চিঠিতে বলা হয়, চীনা সরকার চলমান পরিস্থিতির কারণে ইসরায়েলকে একটি “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা” বা “রেড ক্যাটাগরি” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এটি কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর ফলে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কোনো নতুন চীনা বিনিয়োগ অনুমোদিত নয়।
ব্যালে ভিশনের পরিচালক এবং হানিতা লেন্সেসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিউ ইউক্সিয়াও ডিসেম্বর মাসে এক বার্তায় বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এসব বিধিনিষেধের কারণে নতুন মূলধন বিনিয়োগের পরিবর্তে শেয়ারহোল্ডার ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ ছাড়া তহবিলটি জানায়, গত তিন বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি পরিচালনাগত ক্ষতি এবং বিপুল ঋণও চুক্তিটি বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এসব দাবির পরও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলে নতুন বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন চীন–‘ইসরায়েল’ সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে প্রযুক্তি ও অবকাঠামো সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকলেও ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি থাকলেও, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সত্ত্বেও চীন বিভিন্ন ইসরায়েলি খাতে বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বেইজিং অন্য ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক বিধিনিষেধও আরোপ করেছে। জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখিয়ে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা পণ্য ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য নিষিদ্ধ করে বেইজিং।
তেল আবিব জেলা আদালতে দায়ের করা মামলায় কিবুৎজ হানিতা দাবি করেছে, ব্যালে ভিশনের শেয়ার কেনা থেকে সরে আসা চুক্তিভঙ্গের শামিল এবং এতে কারখানার আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। অন্যদিকে ব্যালে ভিশন বলছে, অভ্যন্তরীণ আর্থিক সমস্যা এবং কথিত বাহ্যিক বিধিনিষেধের কারণে চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply