প্রয়াত কিংবদন্তি গায়ক, গিটারিস্ট ও সংগীত পরিচালক আইয়ুব বাচ্চুকে ২০২৬ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক-২০২৬ দিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুকে এ পদক দেয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তা জানতে পেরে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন গায়কের স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা। এদিন সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর আমার চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। কেননা, যার নেয়ার জিনিস, সে তো আর নেই। নিজের হাতে সম্মাননা নিতে পারা একটি বিশাল ব্যাপার। ওর জন্য দোয়া করবেন, যেন ওপর থেকে দেখতে পায়।
তার ভাষ্যমতে―একুশে পদক প্রাপ্যই ছিল আইয়ুব বাচ্চুর। কিন্তু জীবদ্দশায় সেই সম্মান নিজ হাতে নিতে না পারার আক্ষেপ থেকে গেছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে গায়কপত্নী বলেন, শিল্পীরা নিজ হাতে সম্মানটা নিতে পারলে বেশি খুশি হন। আইয়ুব বাচ্চু হয়তো দুর্ভাগা মানুষ, এ জন্য সেটি পায়নি। তবে তার মৃত্যুর পর হলেও তাকে সম্মানিত করায় অসংখ্য ধন্যবাদ সরকারকে।
এবার আইয়ুব বাচ্চুসহ একুশে পদক পাচ্ছেন ৯ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান। তারা হলেন- চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও প্রযোজক ববিতা, চারুকলায় ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্য মেরিনা তাবাসসুম, নাট্যকলায় পালাকার ইসলাম উদ্দিন, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার ও নৃত্যকলায় অথৈ আহমেদ। আর প্রতিষ্ঠান ব্যান্ড মিউজিকে- ওয়ারফেজ।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর দুপুরের দিকে মৃত্যু হয় আইয়ুব বাচ্চুর। তার জন্ম চট্টগ্রামে। সেখানেই বড় হয়েছেন তিনি। কিশোর বয়স থেকেই পশ্চিমা সংগীতের প্রতি ঝোঁক ছিল তার। চট্টগ্রামে কলেজজীবনে সহপাঠীদের নিয়ে গড়ে তোলেন একটি ব্যান্ডদল। যার নাম ছিল ‘গোল্ডেন বয়েজ’। যা পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘আগলি বয়েজ।’ এ ব্যান্ডের গায়ক ছিলেন কুমার বিশ্বজিৎ এবং আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন গিটারিস্ট।
দীর্ঘ চার দশকের গায়কী ক্যারিয়ারে ১২টি ব্যান্ড দল, ১৬টি একক ও অসংখ্য মিশ্র অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে আইয়ুব বাচ্চুর। অ্যালবামগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সুখ’, ‘তবুও’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘স্বপ্ন’, ‘আমাদের বিস্ময় (ডাবল অ্যালবাম)’, ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মনে আছে নাকি নাই’, ‘স্পর্শ’ ও ‘যুদ্ধ’।
একক শিল্পী হিসেবে প্রকাশ হওয়া অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘রক্ত গোলাপ’, ‘ময়না’, ‘কষ্ট’, ‘সময়’, ‘প্রেম তুমি কী’, ‘পথের গান’, ‘জীবন’, ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’, ‘জীবনের গল্প’ ইত্যাদি। তার গাওয়া ‘সেই তুমি’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘মেয়ে’, ‘মেয়ে সুখী নয়’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘এক আকাশের তারা’ গানগুলো এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে।
Leave a Reply