বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসিতে জামায়াতের ৯ দফা দাবি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাবা-মায়ের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা সরকার বসে নেই, দ্রুত সব সংকটের সমাধান হবে: রিজভী নবম জাতীয় বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর : নাসিমুল গনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ফুলেল শুভেচ্ছা শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে দুর্ঘটনায় বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: দীনেশ ত্রিবেদী আগামী রমজানের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ মমতা ব্যনার্জির ভাইঝির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে মুখ খুলল তুরস্ক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৫ বার

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তবে এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে এমন উদ্যোগের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও বিস্তৃত আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তুরস্কের এই শীর্ষ কূটনীতিক।
সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। এ ধরনের কোনও সামরিক জোট গঠনের সম্ভাবনা আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ফিদান বলেন, শুধু দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় চুক্তি নয়, বরং বিস্তৃত আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর জোর দেয়া জরুরি। তার মতে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যদি একে অপরের ওপর আস্থা রাখতে পারে, তাহলে অনেক আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এর আগে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানায়, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে আগ্রহী তুরস্ক। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন এবং ন্যাটোর প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করতেই এই জোটকে গুরুত্ব দিচ্ছে তুরস্ক।
প্রতিবেদনে আঙ্কারাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেপাভের কৌশলবিদ নিহাত আলি ওজচানের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, সৌদি আরবের রয়েছে শক্তিশালী আর্থিক সামর্থ্য, পাকিস্তানের রয়েছে পারমাণবিক সক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিপুল জনবল, আর তুরস্কের রয়েছে সামরিক অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী রাজা হায়াত হাররাজ বিবিসি উর্দুকে বলেন, কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে তুরস্ক, চীন, সৌদি আরব ও আজারবাইজান পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র। কৌশলগত নীতির ক্ষেত্রেও এসব দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
এর আগে রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একটি ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী, কোনও একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয় দেশের বিরুদ্ধেই আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে তুরস্ক যদি এই প্রতিরক্ষা জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়, তাহলে তা সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশ এখন অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ সপ্তাহেই আঙ্কারায় দুই দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো নৌবাহিনীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইরান ইস্যুতে তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ থাকলেও তারা সামরিক শক্তি নয়, বরং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার পথকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি তারা সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষেও অভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে তুরস্ক ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ, যা মোট আমদানির ১১ শতাংশ।
বর্তমানে তুরস্ক পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য করভেট যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে এবং পাকিস্তানের এফ–১৬ যুদ্ধবিমানের বড় একটি বহর আধুনিকীকরণের কাজ করেছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories