মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসিতে জামায়াতের ৯ দফা দাবি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাবা-মায়ের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা সরকার বসে নেই, দ্রুত সব সংকটের সমাধান হবে: রিজভী নবম জাতীয় বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর : নাসিমুল গনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ফুলেল শুভেচ্ছা শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে দুর্ঘটনায় বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: দীনেশ ত্রিবেদী আগামী রমজানের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ মমতা ব্যনার্জির ভাইঝির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিরিয়ায় গভর্নর-মন্ত্রীদের বৈঠকের সময় ভয়াবহ হামলা, সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৯ বার

সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে গভর্নরেট ভবনে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশটির সেনাবাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যকার চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এতদিন সংঘর্ষ মূলত আশরাফিহ ও শেখ মাকসুদ এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এই হামলার মধ্য দিয়ে তা শহরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) চালানো এই ড্রোন হামলায় আলেপ্পোর গভর্নর ভবন লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ ড্রোনটি নিক্ষেপ করেছে। হামলার সময় ভবনের ভেতরে সংবাদ সম্মেলন চলছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-ঘারিবসহ সিরীয় সরকারের দুই মন্ত্রী ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোন বিস্ফোরণের ফলে গভর্নর ভবনের ওপরের তলাগুলো কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের সময় গভর্নর চলমান সংঘর্ষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছিলেন। শেখ মাকসুদ ও আশরাফিহ এলাকায় টানা চার দিন ধরে চলা লড়াইয়ের পাশাপাশি শহরের অন্যান্য অংশের পরিস্থিতি সম্পর্কেও তিনি তথ্য দিচ্ছিলেন। তবে হামলায় হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এই ড্রোন হামলার কিছুক্ষণ আগেই সিরীয় সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয়, তারা আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ এলাকায় সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত করেছে। প্রস্তাবিত এক সমঝোতার আওতায় এসডিএফ যোদ্ধাদের ওই কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা থেকে সরে গিয়ে অস্ত্র জমা দিয়ে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার তাবকা শহরে স্থানান্তরের কথা ছিল। সিরীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রক্তপাত বন্ধ করা।
তবে কুর্দি কর্তৃপক্ষ সরকারের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এসডিএফ জানিয়েছে, শেখ মাকসুদ পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এমন দাবি জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। তাদের দাবি, তারা এখনও সেখানে তীব্র হামলা প্রতিহত করছে এবং লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
সিরীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার সরকারি বাহিনী শেখ মাকসুদে প্রবেশ করে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে, অস্ত্র জব্দ করেছে এবং এসডিএফ যোদ্ধাদের আটক ও নিরস্ত্র করেছে। অন্যদিকে কুর্দি নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এসব দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, জেলার কিছু অংশে এখনও সংঘর্ষ চলছে এবং সরকারি বাহিনী পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট
নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে বেসামরিক মানুষ। শেখ মাকসুদ ও আশরাফিহ এলাকা থেকে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন, যাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, চলমান সামরিক অভিযান ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের ঝুঁকির কারণে তারা যেন এখনই এসব এলাকায় ফিরে না যান। উভয় পক্ষই বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে।
কুর্দি বাহিনীর অভিযোগ, সরকারপন্থি গোষ্ঠীগুলো দেইর হাফের কাছে গোলাবর্ষণ করেছে, এতে ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু নিহত হয়। অন্যদিকে সিরীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, এসডিএফ যোদ্ধারা হাসপাতালসহ বেসামরিক ভবন ব্যবহার করে অভিযান চালাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সিরিয়া ভেঙে পড়ার প্রেক্ষাপটে এসডিএফ শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। এতে কুর্দি মিলিশিয়া পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) প্রধান ভূমিকা পালন করে।
গত মার্চে স্বাক্ষরিত এক চুক্তিতে এসডিএফ ও নতুন অন্তর্বর্তী সিরীয় সরকার সিরিয়ার ঐক্যের ওপর জোর দেয় এবং উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার সব বেসামরিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের অধীনে আনার কথা জানায়। এতে সীমান্ত, বিমানবন্দর এবং তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এরপর থেকে কুর্দি নেতারা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories