ক্যাম্পাসে মাদকের ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধ এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন অনুষদ ও বর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে মাদকসংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণাধি, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা ও কঠোর শাস্তির অভাবের কারণে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ক্যাম্পাসে মাদক সরবরাহ ও ব্যবহারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে—শাস্তির সুস্পষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন, অপরাধ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে হস্তান্তর, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও স্থানে নিয়মিত ও আকস্মিক ডোপ টেস্ট চালু, মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন এবং ক্যাম্পাসজুড়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা।
এছাড়া ভর্তি ও স্নাতক সনদ প্রদানের আগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দাবিও তুলে ধরা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নবীন শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ধীরে ধীরে মাদকের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে। বিকেল হলেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বহিরাগতদের আনাগোনা দেখা যায়। মাদক শুধু একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নয়, পুরো জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিতে পারে।
তিনি মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বানও জানান।
বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের বক্তব্যে মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, মাদক সেবন বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ধরা পড়লেও অনেক সময় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীর বলেন, শেকৃবিতে ভর্তি হওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীই মেধাবী। কিন্তু সঠিক নজরদারির অভাবে অনেকেই সঙ্গদোষে বিপথে চলে যাচ্ছে। প্রশাসনের ভূমিকা এখানে হতাশাজনক। প্রশাসন অনেক সময় লোক দেখানো উদ্যোগ নেয়, কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ থেকে মাদক সরবরাহের অভিযোগ তুলে বলেন, হলভিত্তিক মাদক চক্রের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
জাতীয় ছাত্রশক্তির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম পাভেল বলেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমে তার যুবসমাজ ও শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়। আমাদের ক্যাম্পাসে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের জন্য মাদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী ইসলাম নাঈম বলেন, মাদক সেবীদের সঙ্গে বাইরের সরবরাহকারীদের সম্পর্ক ওপেন সিক্রেট। কিন্তু বারবার এসব বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান বিচার আমরা দেখি না। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং শেকৃবিকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তুলবে।
Leave a Reply