মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের নাগরিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দীন। তিনি ডাকযোগে ভোটদানের জন্য প্রবাসীদের নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণই স্বাধীনতার মূল চেতনার বাস্তব প্রতিফলন।
কানাডার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
দিনের শুরুতে অটোয়ায় বাংলাদেশ হাউসে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দীন। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে হাইকমিশনের অডিটোরিয়ামে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, কানাডায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাণী পাঠ করা হয়। পরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কমিউনিটি সদস্য ও অতিথিরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের আরও গভীর সম্পৃক্ততা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
সমাপনী বক্তব্যে হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দীন বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এখন সময় এসেছে রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রবাসীদের ভূমিকার পরিসর বাড়িয়ে তা নতুনভাবে পুনঃসংজ্ঞায়িত করার।
দক্ষতা বিনিময়, উদ্ভাবন, অ্যাডভোকেসি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে জাতি গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা বাস্তবায়নে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।
নাগরিক দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে হাইকমিশনার প্রবাসী বাংলাদেশিদের ডাকযোগে ভোটদানের জন্য নিবন্ধনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সেই মৌলিক মূল্যবোধের প্রকাশ, যার জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল।
Leave a Reply