সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন

“আমরা শিক্ষক এবং আমরাই দীক্ষক”–পারভীন আকতার

পারভীন আকতার
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৫০ বার

হযরত জিবরাইল (আ:) প্রথম যেদিন পবিত্র কোরআনের বাণী নিয়ে এসেছিলেন হেরা গুহায়,আল্লাহর ধ্যানমগ্ন আল্লাহর হাবীব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ( সা:) কে প্রথমে বলেছিলেন “পড়,তোমরা সৃষ্টিকর্তার নামে।” হযরত মুহম্মদ (সাঃ) তখন প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনা কী জিনিস জানতেনই না। তাঁর সেই অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হয়নি শিশুকাল থেকে। মা বাবাহীন একজন অনাদ শিশু দাদা,চাচার হাতে মানুষ। তবুও কতো নম্র ভদ্র তাঁর চালচলন ছিল তাঁর। তিনি সবার কাছেই বিশ্বাসী ছিলেন। তখন তাঁকে শত্রুরাও আমানত রাখতে দ্বিধা করতো না। এজন্যই তাঁকে বলা হতো আল আমিন মানে বিশ্বাসী।

অথচ খোদাতায়ালার কুদরতে তিনি পড়তে শুরু করলেন, লিখতে পারলেন এবং একজন যোগ্যদেরও সেরা খোদার নবী ও রাসূল (সা:) হয়েছেন। হযরত জিবরাইল (আঃ) ছিলেন তাঁর প্রথম শিক্ষক। যুগে যুগে এমন অনেক বিচক্ষণ জ্ঞানী শিক্ষকের শিক্ষক এসেছেন প্লেটো,আইনস্টাইন, পীথাগোরাস, আলবেরুনী থেকে শুরু করে পল্লী কবি জসিম উদ্দিন এঁরা সবাই পুরোদস্তুর নামজাদা শিক্ষক ও দার্শনিক ও কবি ছিলেন। আর এই যুগে আমাদের লেখক,কবি ও দৈনিক পূর্বদেশের সহ সম্পাদক বেলাল ভাই থেকে শুরু করে আজ আমরা শিক্ষকতা পেশাটি সগৌরবে গ্রহণ করেছি।

ঊনিশ বছর চাকরী জীবনে কত বঞ্চনা সয়েছি।একদিনের জন্যও চাকরীতে অবহেলা করিনি। শরীর খারাপ হলেও পড়াতে গিয়েছি। একদিনের জন্যও অহেতুক ছুটি নিয়ে বাসায় বসে কাটাইনি। আনন্দ করার জন্য খুঁজে নিয়েছি ক্লাস রুম,শিক্ষার্থীদের ভিতরকার প্রতিভা বের করে সুখ খুঁজেছি। একেক শিক্ষক একেক রকম ভালো লাগায় চাকরীটা করছেন।

তবে বছরের পর বছর একই গ্রেডে এবং পোষ্টে শিক্ষকদের জিম্মি করে রাখা তা চাকরী বিধির সরাসরি লঙ্ঘন। যার প্রতিটি স্টেপে শুধুই প্রাথমিক শিক্ষায় এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেশি ভুক্তভোগী হিসেবে পরিলক্ষিত হয়। একজন ব্যাংকার যেখানে ৪৫০ টাকা প্রতিদিন লাঞ্চ ভাতা পায় সেখানে একজন প্রাথমিক শিক্ষক শুধুমাত্র টিফিন খরচা পায় তাও মাসিক ২০০ টাকা হারে। এবার কী রকম বৈষম্যের স্বীকার শিক্ষকগণ বুঝেন। যাঁর হাতে শিশুকালের স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার,আমলা আর ব্যাংকার তৈরি হয় আর তাঁর হাতেই ফোঁটা থালা ধরিয়ে দেয় প্রতিটি সরকার! এটা কি শিক্ষকদের জন্য অবমাননাকর নয়?

একমাত্র পদোন্নতি দিলেই শিক্ষকদের গ্রেড জটিলতা কমে যেত। যথাসময়ে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সাপেক্ষে এক্ষেত্রে শিক্ষকদের সম্মান মর্যাদাও বাড়তো এবং আর্থিকভাবেও তাঁরা লাভবান হতেন। দেশের বেশিরভাগ মানুষ বড়ই আশা করে সরকারি চাকরীতে জান দিয়ে লড়ে জায়গা করে নিতে চায় এ কারণে যে তাঁর একটি সুশৃঙ্খল অভাব-অনটন বিহীন নিরাপদ জীবন হবে। কিন্তু এটাসেটা, মামলা মোকদ্দমা ঝুলিয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ চিরতরে রুদ্ধ করা হয়েছে। অথচ সরকার চাইলেই তা এক নিমিষে এক মিছিলেই শেষ হতে বাধ্য। শিক্ষকদের মাঝেও ভুক্তভোগী ও সুবিধাবাদী দু’টো শ্রেণির উদ্ভব ঘটেছে এ কারণেই। সরকারের কিছু ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাউকে বুকে টেনে নেয় আবার অনেককেই শৃঙ্খলে বন্দী করে নানা ছল চাতুরী ও দূর্নীতির দায়ে। তলে তলে তারা বলেন “তোমরা আন্দোলন করো, আমরা তোমাদের পাশে আছি।” এসব ওরাদুরা কাজ না করে বরং একটি স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠন করুন,শিক্ষকদের জন্য আলাদা পে কমিশন গঠন করুন। তবেই তো সব সমস্যার আশু সমাধান পাবেন। তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষকদের এনে কমিশনে বসান। তারাইতো দিতে পারবে সমস্যার আসল সমাধান। আসুন আমরা শিক্ষকদের প্রতি সম্মান দেখায়। তাঁদের যথাযথ মর্যাদা দিয়ে একটি উন্নত মানসিকতার জ্ঞানী জাতি গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালায়।

পারভীন আকতার
শিক্ষক, কবি ও প্রাবন্ধিক
চট্টগ্রাম।

আমাদের সাথেই থাকুন

One response to ““আমরা শিক্ষক এবং আমরাই দীক্ষক”–পারভীন আকতার”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories