ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদার পরিযায়ী শ্রমিক জিমিদার মন্ডল। কর্মসূত্রে থাকেন আরেক রাজ্য গুজরাটে। তবে নিজের রাজ্যে বাবরি মসজিদের নির্মাণ হচ্ছে শুনে কাজ ফেলে চলে এসেছেন নিজ গ্রামে। উদ্দেশ্য— নিজের মাথায় করে ৪টি ইট পৌঁছে দেবেন বাবরি মসজিদের নির্মাণস্থলে। এজন্য মালদার নিজের গ্রামের বাড়ি থেকে ১৬৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বেলডাঙা যাচ্ছেন জিমিদার।
মালদার মানিকচক ব্লকের এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা জিমিদার। বুধবার কাকভোরে গ্রামের মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে ভাইকে সঙ্গে করে জাতীয় সড়ক ধরে যাত্রা শুরু করেন তিনি। মাথায় কাপড়ে মোড়া চারটি সাধারণ ইট— তবে জিমিদারের কাছে এগুলোই তার শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতীক। কুয়াশায় ঢাকা সকাল, দুই ভাইয়ের ধীর পদচারণা। সামনে ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ। রোদ উঠছে, আবার মিলিয়ে যাচ্ছে; রাত নামছে, ক্লান্তি বাড়ছে। তবুও থামছেন না তারা। জিমিদারের হিসাব, পথে বিরতি না নিলে ২৪ থেকে ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন বেলডাঙায়।
জিমিদার বলেন, ‘মসজিদের দরজায় আমার এই ইট পৌঁছালে মনে হবে আমি মানুষের জন্য, সমাজের জন্য কিছু করতে পেরেছি। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।’
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে বাবরি মসজিদের নির্মাণ কাজ। আর তখন বিত্তবানদের দানের নির্মাণ সামগ্রীর সঙ্গে এক পরিশ্রমী শ্রমিকের ঘামে ভেজা ইটও মিশে যাবে ইতিহাসের বুকে।
মূলত বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য সাধারণ মানুষের দেয়া অনুদানে শুধু অর্থ নয়, লাখ লাখ রুপির নির্মাণসামগ্রীও জমা হচ্ছে নিয়মিত। সমাজের অর্থ ও বিত্তবান মানুষেরা যেমন তাদের সাধ্যমত নির্মাণ সামগ্রী পাঠাচ্ছেন। তেমনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষজনও মাথায় করে ইট নিয়ে হাজির হচ্ছেন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ মসজিদের নির্মাণস্থলে।
এর আগে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনই অর্থাৎ গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে একই নামে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির। ১৯৯২ সালের ছয়ই ডিসেম্বর ভেঙে ফেলা হয়েছিল অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেসময় দেশজুড়ে আলোড়ন দেখা দেয়। আর সে কথা মাথায় রেখেই এই দিনকেই মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন বা শিলান্যাসের দিন হিসেবে বেছে নেন হুমায়ুন কবির।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় কিছুটা চ্যালেঞ্জের সুরেই হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘বাবরি মসজিদ তৈরি হবে হবে হবেই। কোনও শক্তি আটকাতে পারবে না, আটকাতে এলে জীবনের বিনিময়ে হলেও মোকাবিলা করব’। মূলত মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরি নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত দীর্ঘ সময় ধরেই অনড় ছিলেন হুমায়ুন কবির। দলের কোনোরকম আপত্তিই গ্রাহ্য করেননি তিনি। বরং জানিয়ে দিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তিনি তৈরি করবেনই।
মঞ্চ থেকে হুমায়ুন কবির বলেন, আমি কোনো অসাংবিধানিক কাজ করছি না। হাইকোর্ট বলে দিয়েছে, হুমায়ুন কবির কোনও অসাংবিধানিক কাজ করেনি। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্ত স্থাপনের ঘোষণার পর বিজেপি পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। তার ভাষায়, ‘আমরা ঘোষণা করার পরই বিজেপি বললো এখানে মুর্শিদাবাদে রাম মন্দির স্থাপন করবে। আমরা বাধা দিইনি। সবার নিজের নিজের ধর্ম পালন করার অধিকার ভারতবর্ষের সংবিধানে রয়েছে।
এরপরই বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি। তার কথায়, ‘আমরা বাবরি মসজিদ তৈরি করতে পারব না? আমার মাথার দাম এককোটি টাকা ঘোষণা করা হচ্ছে। এত বড় হিম্মত! আমরা আমাদের ধর্মের প্রতি যেমন আস্থাশীল, তেমনই অন্য ধর্মের প্রতিও আমরা শ্রদ্ধাশীল। মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন মুর্শিদাবাদ থেকে এক একটা ইট খুলে নিয়ে যাবেন, তাহলে বলি পশ্চিমবঙ্গে যে ৩৭ শতাংশ জনসংখ্যা রয়েছে তারা জীবন দিয়ে বাবরি মসজিদকে রক্ষা করবে
তিনি জানিয়েছেন মসজিদের পাশাপাশি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, হোটেল তথা রেস্টুরেন্ট, পার্কসহ অনেক কিছুই তৈরি হবে সেখানে। হুমায়ুন কবিরের কথায়, ‘৩০০ কোটি টাকা বাজেট। আমাকে একজন ব্যবসায়ী কথা দিয়েছেন ৮০ কোটি টাকা দেবেন’।
এর আগেই অবশ্য তিনি জানিয়েছিলেন যে সরকারি অর্থে এই মসজিদ তৈরি হবে না। অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘৩৩ বছর আগে মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত হানা হয়েছিল। সেই আঘাতে আজ সামান্য হলেও প্রলেপ পড়েছে। আমি বলছি এখানে বাবরি মসজিদ তৈরি হবে হবে হবেই
Leave a Reply