ভারতের গোয়ার আরপোরা এলাকায় ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নামের একটি নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ভয়াবহ এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজন পর্যটক ও ১৪ জন ক্লাবের কর্মী ছিলেন।
ঘটনার পর কীভাবে আগুন লাগলো ও ছড়িয়ে পড়লো এবং কেন এত প্রাণহানি ঘটলো তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এছাড়াও ক্লাবটির বৈধতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটি নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশের বরাতে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর এই আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে গোয়ার পুলিশপ্রধান অলোক কুমার জানান, একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরেই আগুন লাগে। তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা সাংঘর্ষিক। অনেকের দাবি, আগুনের সূত্রপাত হয় প্রথম তলায়, যেখানে প্রায় ১০০ জন পর্যটক নাচছিলেন।
হায়দরাবাদ থেকে আসা পর্যটক ফাতিমা শেখ জানান, হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা উঠতেই চারদিকে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। আমরা যখন ছুটে বেরোতে চেষ্টা করি, তখন পুরো কাঠামোটি আগুনে পুড়ে গেছে।’ তদন্ত এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্লাবের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ ছিল অত্যন্ত সরু। আগুন ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই নিচতলার রান্নাঘরের দিকে ছুটে যান এবং সেখানেই কর্মীদের সঙ্গে আটকে পড়েন। বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে। আগে মৃতের সংখ্যা ২৩ বলা হলেও পরে তা বেড়ে ২৫-এ দাঁড়ায়।
গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত পিটিআইকে জানান, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী আগুনের সূত্রপাত হয় ওপরের তলায়। দরজা অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় কিছু মানুষ বেরোতে পারলেও আগুন তীব্র হয়ে ওঠার পর অনেকেই আটকে যান। যারা বেজমেন্টের দিকে দিকে গিয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশই পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে দমবন্ধ হয়ে মারা যান।
নাইটক্লাবটি ছিল ব্যাকওয়াটারের মধ্যে অবস্থিত, যেখানে যাওয়ার জন্য ছিল মাত্র একটি সরু পথ। ফলে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, যার ফলে উদ্ধারকাজে বিলম্ব ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ফাতিমা শেখ জানান, ক্লাবের ভেতরের সাময়িক কাঠামোটি ছিল পামপাতা দিয়ে তৈরি, যা খুব সহজেই আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো ক্লাব জ্বলতে থাকে।
আরপোরা-নাগোয়া পঞ্চায়েতের প্রধান রোশন রেডকার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই ক্লাবটি ছিল অবৈধ। তার দাবি, নির্মাণের জন্য কোনো লাইসেন্স নেয়া হয়নি। তদন্তের পর ক্লাবটি ভেঙে ফেলার নোটিশও জারি করা হয়েছিল। তবে তা আপিলের পরে পঞ্চায়েত দপ্তরের আবেদনের ভিত্তিতে স্থগিত হয়ে যায়।
জানা গেছে, ক্লাবটির পরিচালক সৌরভ লুথরা এবং তার সঙ্গে জমির মালিক ও তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিরোধ ছিল, যা নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। ক্লাবটি পরিবেশ-সংবেদনশীল লবণাক্ত জমিতে এবং উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত বলে জানা গেছে, যেখানে নির্মাণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এরপরেও কেন এতদিন ধরে এই অবৈধ ক্লাব চালু ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
Leave a Reply