হাতের সাহায্য না নিয়ে সাঁতরানো বেশ কঠিন কাজ। আর সেই কঠিন কাজটিই করে দেখালেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাসিন্দা মাইকেল মোরো। হাতকড়া পরে সাতরেছেন তিনি। তবে ২০-৫০ মিটার কিংবা ১-২ কিলোমিটারও নয়, ২৮.৫ মাইল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সী এই মার্কিনি!
মানহাটনের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন মোরো। ইস্ট রিভার, তারপর হার্লেম নদী, এরপর হাডসন নদী বেয়ে মোরো শেষ করেন তার সাতার। ১০ ঘণ্টারও কম সময়ে বিখ্যাত এই সাতার শেষ করেন তিনি।
এই কীর্তি মোরোকে এনে দিয়েছে দুইটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। প্রথমটি, হাতকড়া পরে সবচেয়ে দীর্ঘ পথ খোলা পানিতে সাতার। দ্বিতীয়টি, হাতকড়াসহ নিউইয়র্কের জলপথ ঘুরে আসা প্রথম (এবং দ্রুততম) সাঁতারু।
মোরোর সাপোর্ট ক্রুর সদস্য ও সহ-সাঁতারু ক্যাপ্রি জাটিয়াসমোরো বলেছেন, ‘খোলা পানিতে সাঁতারের উত্তেজনা এতটাই তীব্র যে তা প্রায় অবৈধ আনন্দের মতো লাগে।
তিনি মজা করে বলেন, ‘সাঁতার শেষে আমি ঘুড়ির মতো উড়তে থাকি। সাঁতার না জানা মানুষেরা এটাকে হয়তো দুর্দান্ত ব্যায়াম বা অসাধারণ যৌন অভিজ্ঞতার পরের অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করতে পারেন।
হাতকড়া পরে কেন সাতার দিয়েছেন তার ব্যাখ্যায় মোরো বলেন, ‘আমি এমন সব মানুষের গল্প শুনতে শুরু করলাম যারা নিজেদের সীমা ছাড়িয়ে যেতে কখনো হাল ছাড়েনি। তখন ভাবলাম, ‘‘আমি কেন পারব না?’’ সেখান থেকেই শুরু হয় আমার যাত্রা। আমি জানতাম, আমাকে এটা পানিতেই করতে হবে।
ছোট থেকেই সাতারের প্রতি নেশা মোরোর। সেই গল্প শোনাতে যেয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা বলেন, হাঁটার আগেই আমি নাকি সাঁতার জানতাম। কথা বলার আগেই নাকি জানিয়ে দিয়েছিলাম, আমি পানিতে থাকতে চাই। সেখানেই আমার জায়গা।
মোরো স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ছিলেন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু। একাধিক রেকর্ডের মালিকও তিনি। যার একটি এখনো অটুট। তবে পরে তিনি সাঁতার ছেড়ে দেন এবং প্রায় দুই দশক আর পানিতে ফেরেননি।
মধ্য-চল্লিশে আবারও পানির প্রতি প্রেম জাগে মোরোর। ডায়ানা নায়াড বা রস এডজলির মতো ম্যারাথন সাঁতারুদের ভিডিও মোবাইলে দেখতে শুরু করলেন তিনি। মোরোর মনে হতে থাকে, তার ভেতরে এখনো অনেক কিছু বাকি। সেটাই মোরোর ২৮.৫ মাইল সাতারের প্রেরণা।
Leave a Reply