ওয়ানডেতে ৩৫৮ রান করার পরও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ জিততে পারল না ভারত। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অল্প ব্যবধানে হারের হতাশা নিয়ে রায়পুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামে প্রোটিয়ারা। কিন্তু বিরাট কোহলি ও রুতুরাজ গায়কওয়াড়ের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি দেখেও ভেঙে পড়েনি তারা। শেষ পর্যন্ত রেকর্ড রান তাড়া করেই চার উইকেটে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এত রান করেও ভারতের হারের কারণ হিসেবে ৩টি বিষয় উল্লেখ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।
শিশির: ভারতের সবচেয়ে বড় শত্রু
ম্যাচের আসল মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ব্যাপক মাত্রার শিশির। সাধারণ ভেজাভাব নয়, পুরো মাঠজুড়ে যেন থইথই পানি! ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের সময় বল ছিল ভেজা সাবানের মতো, ভারতীয় বোলাররা ছিলেন কার্যত অসহায়। সুইং, সিম, স্পিন কিছুই কাজ করছিল না। ভেজা বলের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন এইডেন মার্করামরা।
ম্যাচ শেষে রাহুলও বললেন সেকথা, ‘হারটা তেমন তেতো নয়, কারণ এত শিশিরে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করা অসম্ভবই প্রায়। আম্পায়াররা কয়েকবার বল বদলেছেন, কিন্তু টস এখানে বিশাল ভূমিকা রাখে। পরপর দুই টস হেরে নিজের ওপরই রাগ হচ্ছে। ৩৫০ ভালো স্কোর, কিন্তু আমরা আলোচনা করেছি, এই কন্ডিশনে হয়তো আরও ২০–২৫ রান বেশি দরকার ছিল।’
টসের অভিশাপ
রাহুলদের জন্য টস শুধু সিদ্ধান্ত নয়, দুর্ভাগ্যের অপর নামও! টানা ২০ ম্যাচে ২০ বার ওয়ানডেতে টস হেরেছে দলটি। পরিসংখ্যান বলছে, এমন দুর্ভাগ্যের সম্ভাবনা এক লক্ষেরও কম মাত্র ০.০০০০৯৫! এবং এটি এমন এক ম্যাচ, যখন টসই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা টস জিতেই নির্দ্বিধায় বোলিং নেন। কারণ তিনি জানতেন, রাতে শিশির দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের জন্য হয়ে উঠবে অতি বড় সুবিধা।
ফিল্ডিংয়ের ভুল
শুধু শিশিরই নয়, ভারতের ফিল্ডিংও হতাশাজনক ছিল। ভেজা আউটফিল্ডে ধরতে না পারা ক্যাচ, সহজ মিসফিল্ড; সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বারবার সুযোগ দিয়েছে ভারত। মার্করামের মতো সেট ব্যাটার এ সুযোগ হাতছাড়া করেননি। রাহুলও স্বীকার করেছেন, ‘আমাদের আরও তীক্ষ্ণ হতে হবে।
Leave a Reply